ইরানের পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রÑ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে। তবে বিশ্ব শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

নিউইয়র্ক থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প কাতারে এসব মন্তব্য করেন। সেখান থেকে তিনি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তৃতীয় ও শেষ ধাপে রওনা দেন। এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চতুর্থ দফায় আলোচনা করে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতেই তারা আলোচনা করছে।

‘বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনার ওপর নজর দিচ্ছেন, যা ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে এবং এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে,’ বলেন এজে বেলের বিনিয়োগ পরিচালক রাস মোল্ড। এ সম্ভাবনার ফলে দুটি প্রধান অপরিশোধিত তেলের দর ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এর ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল রপ্তানি বাড়তে পারে।

ইউরোপের বাজারগুলো দিনের শুরুতে দুর্বলতা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ঝোঁক নিয়ে দিন শেষ করে। লন্ডনে ইতিবাচক মনোভাব দেখা দেয়, কারণ সরকারিভাবে জানানো হয়, প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বেড়েছে, যা যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক কর ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগের সময়কাল। ওয়াল স্ট্রিটে ডাও ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে, তবে মিশ্র মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যে নাসডাক সূচক পিছিয়ে পড়ে।

তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি ছিল প্রায় অপরিবর্তিত, আর পাইকারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি অপ্রত্যাশিতভাবে হ্রাস পায়। ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে দাম বাড়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ওয়ালমার্টের শেয়ারদর কমে যায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ডগ ম্যাকমিলন জানান, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা হ্রাস পেলেও এখনও শুল্কের হার খুব বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পণ্যের দাম যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করব, কিন্তু এই শুল্কের পরিমাণ এতটাই বড় যে, তা পুরোপুরি সহন করা সম্ভব নয়।’

এদিকে বিনিয়োগকারীরা নতুন বাণিজ্য আলোচনা ও চুক্তির অগ্রগতির অপেক্ষায় আছেন, যাতে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হলেও বাজার নতুন প্রণোদনার খোঁজ করছে।

রাইলি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের আর্ট হোগান বলেন, ‘আমরা আবার সেই শূন্যতায় ঢুকেছি, যেখানে বাণিজ্যসংক্রান্ত খবরই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।’

এপ্রিলে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক পরিকল্পনার পর বাজারে ধস নামে, তবে তিনি কিছু কড়াকড়ি শুল্ক থেকে সরে এসে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি এবং চীনের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের ঘোষণা দেয়ার পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে হোগান সতর্ক করে বলেন, ‘২০২৫ সালের শেষভাগে সামগ্রিক শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।’