বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সিপিডি

কালোটাকা সাদা করার সুযোগ জুলাই চেতনাবিরোধী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়া জানায় সিপিডি।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তার ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার বাজেটের তিন-চতুর্থাংশ রাজস্ব হিসেবে আহরণের যে পরিকল্পনা করেছেন, সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সিপিডি।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, সব সময় রাজস্ব আদায় একই ধারায় রয়েছে। এবারও উচ্চ আকাক্সক্ষার রাজস্ব আহরণ বাজেটের বড় চিন্তার বিষয়। ১০ বছর ধরেই আমরা দেখছি, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে ‘বড় ধরনের’ সংস্কার কার্যক্রম লাগবে। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সোমবার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সেখানে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বাজেট ঘাটতি ধরা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত তিন বছর থেকে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ হারে খেলাপি ঋণের কারণে অর্থনীতি একটি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি সূচক ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক দায় পরিশোধ সক্ষমতা বেড়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আনা এবং মূল্যস্ফীতি কমানোই আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে সেই পদক্ষেপ ও কৌশল বিস্তারিত থাকা দরকার।’

অর্থ উপদেষ্টা আশা করছেন, তার নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি- অবৈধ অর্থ বৈধ করার এ ধরনের সুযোগ সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে। সিপিডি বলছে, কর কর্তৃপক্ষের কর আইন ও বিধিমালা প্রয়োগের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।

সিপিডি তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার যখন অবৈধ আয়, অবৈধ লেনদেন ও অর্থপাচার রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন এ ধরনের উদ্যোগ জনগণের কাছে ভুল বার্তা পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এটা জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থি।’

ফাহমিদা খাতুনের মতে, অতীতে এ ধরনের বিধান দেওয়া সত্ত্বেও যথেষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়নি। তিনি বলেন, যদি কোনো সরকার অবৈধ আয়কে বৈধতা দিতে চায়, তবে তা কঠোরভাবে এককালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।