শেয়ার বিজ ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তিনি দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাল ধরেছেন।
কে এই আলিরেজা আরাফি? ৬৭ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে একজন কট্টরপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত। তার পিতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-আরাফি ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র।
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব: আরাফি বর্তমানে ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান এবং কওমের আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
খামেনির আস্থাভাজন: ২০১৯ সালে আলি খামেনি তাকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে মনোনীত করেছিলেন। এছাড়া তিনি ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ: ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
এই পরিষদে আরও রয়েছেনÑইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেয়ি।
৮৮ সদস্যবিশিষ্ট ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ খুব শিগগিরই স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে আলিরেজা আরাফি স্থায়ী পদের জন্যও সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ: আরাফির নেতৃত্ব গ্রহণের সময়টি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম সংকটজনক অধ্যায়। আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। নতুন এই নেতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে একদিকে এই বহুমুখী সামরিক সংঘাত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালনা করা এবং অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থা অটুট রাখা।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post