রেজাউল করিম খোকন : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততা ও নিষ্ঠার কর্মজীবন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ। কারণ তিনি এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সততা, দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়ণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশসেবার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও এ দেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্রনায়ক ও সংগঠক হিসেবে তার আদর্শ, চিন্তাধারা ও অবদান এ জাতি কোনোদিন ভুলতে পারবে না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন সৎ, কঠোর পরিশ্রমী ও বীরত্বপূর্ণ অফিসার হিসেবে তার নাম দ্রুতই সুপরিচিত হয়ে ওঠে। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে, তিনি যেমন দিশেহারা জাতির হƒদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, তেমনি যুদ্ধে দক্ষ নেতৃত্ব ও নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমও তাকে দিয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিসংবাদিত অমরত্ব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত অর্থেই রাষ্ট্র নির্মাতা। তিনি তার জীবনের পুরো সময় দেশ ও মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তার প্রথম মন্ত্রিসভা ‘গ্যালাক্সি অব ইন্টেলেকচুয়ালস’ হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, যোগ্য, জ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ মানুষদের নিয়ে দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। পশ্চিমা বিশ্ব, চীন, ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার দূরদৃষ্টি ছিল অনন্য। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য বাঁক পরিবর্তন। সে সময় সংসদে সব মত ও আদর্শের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, যা একটি সমঝতাভিত্তিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ সংসদের উদাহরণ। জিয়াউর রহমান ছিলেন জন্মগত নেতা। তার সততা ও শৃঙ্খলা কিংবদন্তির মতো।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। তার জীবনাচরণ, ব্যক্তিগত নজরদারি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। যারা বাংলাদেশকে চায়নি, তারাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল। আজও সেই শক্তি নতুন সম্ভাবনাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। এটিকে ধারণ করেই সামনে এগোতে হবে। মাথা উঁচু করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হবে শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন মূলত নেশন বিল্ডার। আগামীতে এ রকম অসামান্য চিন্তক এ দেশে জন্ম নেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তার অকাল মৃত্যু ছিল আমাদের জন্য অভাবনীয় ক্ষতি। কোনো কিছুর সমস্যা তখনই হয়, যখন আমরা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করি। জিয়াউর রহমান সব সময় এসবের বিরোধিতা করেছেন। তিনি দল মত নির্বিশেষে যোগ্যতা ও সততাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান শুধুই সেনা শাসক ছিলেন না, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল তথা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে। মাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে সকল পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে। বাকশাল প্রবর্তনে রুষ্ঠ সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনে ব্যাকুল ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধান সংশোধন করে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন। জিয়াউর রহমান জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রথা বাতিল করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন করেন। গণমাধ্যমের ওপর থেকে সকল কালা-কানুন প্রত্যাহার করে মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যম চালু করেন। একটি রাজনৈতিক সরকার যেখানে সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রকে সংকুচিত করেছিল তখন জাতির প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে আসা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী সৈনিক স্বাধীনতার অন্যতম মূলস্তম্ভ বহুদলীয় গণতন্ত্র জাতিকে উপহার দিয়ে মুক্ত, গণতান্ত্রিক চর্চার পথকে সুগম করেছিলেন। এখানেই জিয়াউর রহমানের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য। জিয়া সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন এবং তার রাজনৈতিক দর্শন ১৯ দফা কর্মসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক নবধারা প্রবর্তন করেন। জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তিনি তার যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা দিয়ে সবার মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তার জীবদ্দশায় দেশের প্রায় প্রতিটি ক্রান্তিকালে অসামন্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে দেশ গঠনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কৃতজ্ঞ জাতি আজও তার আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সততার মাপকাঠিতে তিনি আজও অনন্য ও অদ্বিতীয়। তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েই দেশের চলমান অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করেন। শক্ত হাতে চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে সচল করার জন্য ১৯৭৫ সালের শেষের দিকে যশোরের উলশী গ্রাম থেকে স্ব-নির্ভর আন্দোলন কর্মসূচির সূচনা করে গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি মানুষকে স্বনির্ভর হতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি দেশের ৬৮ হাজার গ্রামের প্রতিটিকে এক একটি স্ব-নির্ভর ইউনিট হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর আন্দোলনের সঙ্গে কৃষি, সেচ, বৃক্ষরোপণ, গৃহ-নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, স্বাস্থ্যরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। খাদ্যে স্বাবলম্বী হবার বিষয়টিকে জিয়াউর রহমান তাঁর জাতীয় নীতি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করাকে স্বনির্ভরতা আন্দোলনের সোপান হিসেবে মনে করতেন জিয়াউর রহমান। এ লক্ষ্যে তিনি খাল খনন করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা সচল করা, একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো, পতিত জমিতে চাষাবাদে গুরুত্বারোপ করাকে তার উন্নয়নের অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। খরা মৌসুমে চাষাবাদে নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিতকরণে তাঁর আমলে প্রায় ৯০০ মাইল দীর্ঘ খাল খনন করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান দেশকে স্বনির্ভরতার লক্ষ্য অর্জনের পরিপূরক হিসেবে গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচিকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করে দেশের স্বাক্ষরতার হারকে বৃদ্ধি করেছিলেন। মূলত মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে তিনি ১৯৮০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রশংসিত গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। গণনন্দিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে খুব স্বল্প সময়ে দেশে প্রায় ৪০ লক্ষ নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান করতে পেরেছিলেন। মূলত ১৯৮৫ সালের মধ্যে দেশের স্বাক্ষরতার হার ৮০% উন্নীতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে দেশের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ‘এক ছেলে এক মেয়ে’ ধারণাকে নীতি ও আদর্শ হিসেবে প্রচার করেন এবং তা বাস্তবায়নে ১৯৭৬ সালে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ৩৮ হাজার পরিবার পরিকল্পনা কর্মী নিয়োগ করেন। ক্ষমতাকে গ্রাম পর্যন্ত বিকেন্দ্রীকরণ করার জন্য এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালের ৩০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রচলন করেন। ১৯৮০ সালের ২১ জুন জিয়াউর রহমানের সরকার মহান জাতীয় সংসদে গ্রাম সরকার বিল উত্থাপন করেন এবং তা একইদিনে অনুমোদিত হয়। এর ফলে ছোট ছোট সমস্যা গ্রামেই সমাধান হতে থাকে। মামলা-মোকদ্দমা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। ১৯৭৮ সালের এক জরিপে জানা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশই যুবক। হতাশা, সন্ত্রাস ও বেকারত্ব ও মাদকাসক্ত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করে তাদেরকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে তিনি যুব সমাজকে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। যুব সমাজকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য ১৯৭৮ সালে তিনি দেশে প্রথমবারের মতো যুব মন্ত্রণালয় চালু করেন। জেলায় জেলায় যুব কমপ্লেক্স চালু করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করেন। গ্রামীণ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশীয় উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীন দেশে তা ছিল অনেকটাই অবহেলিত ও উপেক্ষিত। গ্রামের মানুষের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শহীদ জিয়া ১৯৭৬ সালে ভিডিপি বা গ্রাম প্রতিরক্ষা দল গঠন করেন। সেদিনের সেই বাহিনী আজ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আজকের শিশু আগামীর রাষ্ট্রনায়ক। তাই শহীদ জিয়া শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য ১৯৭৭ সালের ১৫ জুলাই শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিশুদের মেধাবিকাশে টিভিতে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা চালু করে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া বহির্বিশ্বে দেশের অপ্রচলিত গার্মেন্টস শিল্প, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করেছিলেন। জিয়ার হাত ধরেই গড়ে উঠা সেদিনের শিশু গার্মেন্টস শিল্প আজ দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত।
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিপুলসংখ্যক নারীকে কর্মহীন রেখে কোনোভাবেই যে সদ্য স্বাধীন একটি জনবহুল দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় সেটা উপলব্ধি করে শহীদ জিয়া নারীদেরকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাকাকে গতিশীল করার জন্য মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সমাজে তাদের যথাযথ সম¥ান নিশ্চিত করেছিলেন। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রচার ও প্রসার এবং বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে তিনিই প্রথম দেশে পৃথক একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে মাদরাসা তথা ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় সাধন করে নৈতিকতা সম্পূর্ণ সুনাগরিক গড়ে তোলার জন্য স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা আবার স্বাধীন দেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অলম্বন করে সহজেই বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই ইন্দে-সোভিয়েত বলয় থেকে বের হয়ে আমেরিকা ও চীনের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন। তিনি তার সাহসী, চৌকস ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কারণে মুসলিম বিশ্বের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাঁর স্বল্প সময়ের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে একক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন, আল কুদস কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া, ফিলিস্তিন জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন, ওআইসিকে একটি কার্যকরী সংগঠনে পরিণত করার ক্ষেত্রে শহীদ জিয়ার ভূমিকা মুসলিম বিশ্ব আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনিই মূলত মুসলিম বিশ্বে শ্রমবাজার সৃষ্টি করে সরকারিভাবে কর্মী প্রেরণ করেন। শহীদ জিয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টির জন্য সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা। যুগোপযোগী রাজনৈতিক দর্শন প্রচলন করার মাধ্যমে গোটা জাতিকে নতুন পথের দিশা দেখিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি বিনম্র্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি হƒদয়ের অন্তঃস্থল থেকে। মহান আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।
অবসরপ্রাপ্ত, ব্যাংকার, কলাম লেখক
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post