মহসিন আলী, (বেনাপোল) যশোর : যশোরের শার্শা উপজেলার ঠেঙামারি বিলে কচুরিপানা ও জলাবদ্ধতায় এ বছরও হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাঠজুড়ে কচুরিপানার আস্তরণে জমির মাটি দেখা যাচ্ছে না। বোরো ধান রোপণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।
স্থানীয়রা জানান, ঠেঙামারি বিলে মাঠ ভর্তি কচুরিপানা। যা পরিষ্কার করা দুরহ ব্যাপার। কৃষকদেরও মাথায় হাত। ইরি বোরো মৌসুম আসতে বেশি দেড়ি নেই। নভম্বরের শেষের দিকেই মাঠ তৈরি করতে হবে। এখনো বিল ভর্তি পানি রয়েছে। কবে নামবে বিলের পানি সে বিষয়ে কারো কোনো ধারণা নেই। সেই সঙ্গে মাঠজুড়ে কচুরিপানা। জমিতে পা ফেলানোর জায়গা নেই। ইছামতি নদীর পানি এখনও প্রবেশ করছে বিলে। মাঠে কিভাবে ধান চাষ করবে বোরো মৌসুমেÑ এই চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে চাষিদের। বিলে এখনও চার থেকে পাঁচ ফুট পানি জমে রয়েছে।
কৃষক আলী কদর বলেন, তার এক বিঘা জমির কচুরিপানা পরিষ্কার করতে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ পড়বে। কচুরিপানা গাদা দেয়ার জন্য দুই কাঠা জমি পতিত রাখতে হবে। এতে ফসল উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। কচুরিপানা ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।
কৃষক রমজান আলী বলেন, এ বছর বিলে এবং খালে যে পরিমাণ কচুরিপানা জমে রয়েছে। তাতে বোরো ধান লাগানোর কোনো সম্ভাবনাই তারা দেখছেন না। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু এতো টাকা ব্যয় করে যদি সময়মতো বিলের পানি না নামেÑ তা হলে সব খরচ বিফলে যাবে। অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দিয়েছে তাদরে মধ্যে।
অন্য কৃষকরা জানান, তারা ঠেঙ্গামারি বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই স্থায়ী সমাধান চান। তারা শুনেছেন সরকার খাল সংস্কার ও সুইচ গেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। যদি বাস্তববায়ন হয় তা হলে তারা পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন বলে আশা পোষণ করছেন।
কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন বলেন, সরকারিভাবে খাল সংস্কার ও দাউদখালী খাল মুখে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, আমরা খাল সংস্কার ও সøুইসগেট নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুতই এর সমাধান হবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post