সাখাওয়াত সাব্বির, চট্টগ্রাম : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে একাধিক গরমিল পেয়েছে আর্থিক হিসাব মূল্যায়নকারী নিরীক্ষক। ভ্যাট পাওনা ও পণ্য বিক্রির অঙ্কে বড় ধরনের গরমিলের পাশাপাশি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নির্দেশনা অনুসরণেও ব্যত্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে সরকার ৫২ কোটি ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ভ্যাট বাবদ পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট রিটার্নের (মূসক ৯.১) সঙ্গে পাওনা হিসাবের ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার গরমিল রয়েছে। অর্থাৎ আর্থিক বিবরণী ও ভ্যাট রিটার্নের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পণ্য বিক্রির পরিমাণ বা টার্নওভার নিয়েও বড় পার্থক্য ধরা পড়েছে। কোম্পানির আর্থিক হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বিক্রি দেখানো হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অথচ ভ্যাট রিটার্ন অনুযায়ী বিক্রির পরিমাণ ২৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। দুই হিসাবের মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ১ লাখ টাকা।
নিরীক্ষকদের মতে, এ ধরনের পার্থক্য আর্থিক প্রতিবেদনের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং তা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
অন্যদিকে, কোম্পানির হিসাবে শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে অর্থ গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে তা শেয়ার মূলধনে রূপান্তর করতে হয়। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ রূপান্তর সম্পন্ন করেনি। ফলে এফআরসির নির্দেশনাও লঙ্ঘন করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ১০৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো অনুযায়ী সরকারের হাতে রয়েছে ৫৮.৬৭ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দখলে ৩২.৮৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৮.৪১ শতাংশ শেয়ার।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ও উচ্চ টার্নওভারভিত্তিক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে এ ধরনের অমিল বাজারে আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি ব্যাখ্যা ও সমন্বয়ের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, অডিট রিপোর্টে যা লিখা হয়েছে বিষয়গুলো সত্য। তবে এর বাইরেও আমাদের ব্যাখ্যা রয়েছে। আপনি বিস্তারিত জানতে চাইলে অফিসে আসতে পারেন।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post