নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু কোম্পানি, ডিলার ও মুদি দোকানি একযোগে ভোক্তার পকেটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সরবরাহ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কিছু দোকানে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও ‘বাড়তি দাম নেওয়ার’ অজুহাতে লিটারে ৫-১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সুপারশপগুলোতে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হলেও ক্রেতাদের একদিনে সীমিত পরিমাণ তেল কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে খোলা তেলের বিক্রি বেড়ে গেছে।
বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর আগে ডিসেম্বরে সরকারের সর্বশেষ নির্ধারিত খুচরা দাম ছিল প্রতি কেজি ১৯৫ টাকা (লিটারপ্রতি ১৭৬ টাকা)। অর্থাৎ বর্তমানে সরকারি দামের চেয়ে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এ তেলের দাম ছিল ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকা কেজি।
বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কম থাকার কারণে তারা পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল বিক্রি করতে পারছেন না। ডিলাররা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কোম্পানি সরবরাহ কমিয়েছে। এছাড়া আগের মতো কমিশন না দেওয়ার কারণে তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি থেকে বোতলজাত তেল ঠিক সময়ে না আসায় খুচরা বিক্রেতারা খোলা তেলের ওপর বেশি নির্ভর করছেন।
রাজধানীর বাজারে বোতলজাত তেলের বিকল্প হিসেবে ক্যানোলা অয়েলের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে সিটি গ্রুপের ‘তীর’ ব্র্যান্ডের ক্যানোলা অয়েল লিটারপ্রতি ২১০-২১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চেইন সুপারশপগুলোয় ক্রেতাদের সংখ্যা সীমিত রাখতে প্রতিদিন এক ক্রেতার জন্য সর্বোচ্চ এক বোতল তেল বিক্রি করার নিয়ম চালু করা হয়েছে। এতে বোতলজাত তেলের অভাব দেখা গেলেও খোলা তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু খুচরা বাজার নয়, চেইন সুপারশপগুলোয়ও মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’, টি কে গ্রুপের ‘পুষ্টি’ এবং সিটি গ্রুপের ‘তীর’ ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলের সরবরাহ সীমিত। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ‘ডেইলি শপিং’ শাখায় দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে কোনো সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ কিছু মাল এসেছে, যা নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
মুদি দোকান ও সুপারশপের কর্মীরা জানান, সরবরাহ সীমিত থাকায় এবং ভোক্তাদের চাহিদা বেশি থাকায় খোলা তেল বিক্রি করে তারা বেশি লাভ পাচ্ছেন। এতে বোতলজাত তেল সংকটের ছবি তৈরি হলেও মূলত খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি রয়েছে।
ভোক্তাদের মতে, ঈদকে সামনে রেখে তেলের এই অস্থিরতা প্রতিদিনই বাড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি খরচ করছেন। খোলা সয়াবিন তেলের সঙ্গে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেলের দামও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ঈদ এলেই ভোজ্যতেলের বাজারে চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ অবস্থায় সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। সরবরাহ ও দামের সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ঈদযাত্রার আগে বাজারে অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে না।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post