নিজস্ব প্রতিবেদক : স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের দুই কর্মকর্তাকে সম্প্রতি বদলি করে মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, অদক্ষতার কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের মাধ্যমে পিয়ন-ড্রাইভারের নামের বিও (বেনিফিসিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট খুলে সেই অ্যাকাউন্টে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আজিজের লেনদেনের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত শুরুর পরপর ওই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের এসএভিপি মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও অফিসার মোহাম্মদ ফেরদৌসকে বদলি করে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আজিজ শেয়ার বিজকে বলেন, অদক্ষতার কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, তারা খুবই ক্ষুদ্র পর্যায়ের কর্মকর্তা। তাদের বদলি করায় দুদকের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে না।
গত ১৯ জানুয়ারি নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের অভিযোগে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি শেয়ার বিজে ‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বেনামে শেয়ার কেনাবেচা: পিয়ন-ড্রাইভারের নামে বিও অ্যাকাউন্ট চালান আজিজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ন ও ড্রাইভারের নামে বিও (বেনিফিসিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট খুলে সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। তাদের মধ্যে পিয়নের নামে খোলা বিও অ্যাকাউন্টে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অ্যাকাউন্টটি ২০২২ সালের ২৫ জুলাই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ড্রাইভারের নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয় ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট। এই অ্যাকাউন্টটি এখনো সচল আছে। তবে শেষ বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। এই সময়ে অ্যাকাউন্টটিতে লেনদেন হয় ৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
এর আগে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এক পরিচালক ও তার মেয়ের মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করা নিয়ে গুলশান-১ শাখার একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবেদন করে শেয়ার বিজ। এর পরপরই ওই শাখায় কয়েকজন কর্মীকে এ নিয়ে বকাঝকা করা হয় এবং বদলির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের অভ্যন্তরে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগ নিয়ে এক মাস ধরে বড় ধরনের অস্থিরতার কারণে গত সোমবার কেন্দ ীয় ব্যাংক তাকে পুনর্নিয়োগ না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে চিঠি দিয়ে জানায়, বেশির ভাগ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (সুপার মেজরিটি) হাবিবুর রহমানকে পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্ষদ সভা করার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। গত ২২ জানুয়ারি এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যাংকের এক পরিচালকের বাসায় ফাঁকা গুলি এবং হুমকি দিয়ে চিরকুট দেওয়ার ঘটনায় পর্ষদ সভা স্থগিত হয়। অবশেষে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সাফ জানিয়ে দেয়, হাবিবুর রহমানকে পুনর্নিয়োগ না দেওয়ার কথা।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post