নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশে অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
বিসিআই সভাপতি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা। এ কারণে তারা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
এক বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সাম্প্রতিক আলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা বলছে, কয়েক মাস পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তাদের টপ ম্যানেজমেন্ট এখন বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে নিরুৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে কিছু অর্ডার ভারতে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জুলাই-আগস্ট মৌসুমের কার্যাদেশ (অর্ডার) ইতোমধ্যে ধীরগতিতে আসছে, যা শিল্পখাতের জন্য উদ্বেগজনক। অনেক বড় বায়িং হাউস বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের এ ধরনের সংকেত দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে কর-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান বিসিআই সভাপতি। তিনি রপ্তানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিদ্যমান ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর আরোপকে ‘অতিরিক্ত বোঝা’ উল্লেখ করে তা কমানোর আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা না এলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post