নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এক কোম্পানির শেয়ার এবং নারায়ণগঞ্জে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ৪০ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে জমি কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
ডিএসইতে পাঠানো তথ্যানুসারে, তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজে মোট ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এর বিপরীতে প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের দুই লাখ সাধারণ শেয়ার গ্রহণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের পাঁচ কোটি শেয়ারে বিভক্ত। আর পরিশোধিত মূলধন ৫০ লাখ টাকা, যা পাঁচ লাখ সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত। ফলে দুই লাখ শেয়ার ধারণের মাধ্যমে তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানা দাঁড়াবে ৪০ শতাংশ।
এদিকে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কারখানা নির্মাণের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মাদানপুর-৬ মৌজায় ১৯ দশমিক ২৫ ডেসিমল জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ভ্যাট, ট্যাক্সসহ মোট ব্যয় হবে ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৫৬ টাকা ১২ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ওই বছরে ইপিএস ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬২ টাকা ৩৫ পয়সায়।
এর আগে ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। সে বছরে ইপিএস ছিল ৯ টাকা ১৭ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২৪ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫৩ টাকা ২৯ পয়সা। এছাড়া ২০২২-২৩ হিসাব বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে; ওই সময়ে ইপিএস ছিল ৭ টাকা ৭৮ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ৫০ টাকা ১২ পয়সা।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভে রয়েছে ৮৬৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি।
শেয়ার কাঠামোর হিসাবে কোম্পানিটির ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে অবশিষ্ট ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post