শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী দল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরঙ্গি দল বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার করেছিল। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়েছে। খবর: এনডিটিভি।
গতকাল মঙ্গলবার এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর শতাধিক মানুষ হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্যারিকেড ভাঙার কারণে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত, তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছে। হাইকমিশনের নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং পুলিশের পাশাপাশি প্যারামিলিটারি বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস নামের এক যুবকের হত্যাকাণ্ডকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে গিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফিরে যান।
এর আগে ১৪ ডিসেম্বরও প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়েছিল। সেসময় ভারতের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকারের উদ্বেগ জানানো হয় এবং কিছু হামলাকারীর ভারতে পালানোর বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি, কলকাতা ও ভারতের অন্যান্য স্থানে বাংলাদেশি কূটনীতিক ও মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করা হয়েছে।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ফের বিক্ষোভ করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তবে ডেপুটি হাইকমিশন প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শিয়ালদহ রেলস্টেশনের সামনে থেকে তাদের মিছিল শুরু হয়।
শত শত কর্মী ও সমর্থককে নিয়ে মিছিলটি বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে কলকাতার বেগবাগানের সামনে লোহার ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ।
এসময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তখন পাল্টা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের কলকাতার নীলরতন হসপিটাল এবং পিজি হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।
কলকাতা বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন চত্বর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে ভারতের কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। ওই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাও করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post