নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর গতকাল বুধবার কর্মব্যস্তায় দিন পার করেছেন। সকালে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। এরপর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক গতকাল বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সচিবদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বেলা ১১টায় সাভারে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এককভাবে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন।
স্মৃতিসৌধে পরিদর্শন বইয়ে যা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।
‘বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ দেশের ইতিহাসে এযাবৎকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
‘আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের আকাক্সক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি।’
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা: প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুর ১২টার পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তারেক রহমান তার শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বেশ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এরপর তারা সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা এতে অংশ নেন এবং সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে দলটির মহাসচিব ও সংসদীয় দলের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ মহল থেকে তিনজন টেকনোক্র্যাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নীতিনির্ধারণে পেশাদারত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বও নিজের কাছে রেখেছেন।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post