নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি প্রযুক্তি খাতে নতুন সংযোজন হিসেবে ডিজিটাল শিক্ষায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ওয়ালটনের ট্যাবলেট ব্র্যান্ড ওয়ালপ্যাড এবং আধুনিক শিক্ষা–প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিখো–এর যৌথ উদ্যোগে বাজারে এসেছে অত্যাধুনিক লার্নিং-কেন্দ্রিক ট্যাবলেট ‘এডুট্যাব’। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট, সহজ ও কার্যকর করতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এই পার্সোনালাইজড ও এক্সক্লুসিভ ডিভাইসটি।
উদ্যোক্তারা জানান, এডুট্যাবের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দেশসেরা শিক্ষকদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আধুনিক সব শিক্ষাসেবা গ্রহণ করতে পারবে। বাসায় ব্যবহারযোগ্য এই ট্যাবটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, ওয়ালটনের তৈরি এই ডিজিটাল ডিভাইসটি পড়াশোনার কৌশলকে আরও সহজ ও শক্তিশালী করবে। স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের মতোই এতে অ্যাপ স্টোরে পূর্ণাঙ্গ অ্যাক্সেস রয়েছে। একই সঙ্গে শিখোর লার্নিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকায় দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এডুট্যাব পরিচালিত হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে। এতে রয়েছে শক্তিশালী হেলিও জি৯৯ অক্টা-কোর প্রসেসর, ৮০০×১৩৪০ রেজুলেশনের ৮.৬৮ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে, ৪ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য এতে সংযোজন করা হয়েছে ৬,০০০ এমএইচ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। ফোরজি নেটওয়ার্ক ও দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সাপোর্ট থাকায় ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও অনলাইন ক্লাস হবে আরও স্মুথ। এছাড়া ইউএসবি ২.০ (টাইপ-সি) পোর্টসহ অনলাইন ক্লাসের সুবিধার্থে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার ও ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
এ বিষয়ে ওয়ালটন কম্পিউটার প্রোডাক্টের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) তৌহিদুর রহমান রাদ বলেন, ‘শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য এডুট্যাব একটি কার্যকর সহায়ক ডিভাইস। লাইভ ক্লাস, গাইডেড প্র্যাকটিস, অ্যানিমেটেড লেসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্মার্ট সাপোর্ট—সবকিছু এক ডিভাইসেই সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রমের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপ, ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা ও শেখার ধরণ দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের ফলেই এই ডিভাইসটি তৈরি।’
তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও টিচিং প্র্যাকটিস যখন একই ডিভাইসে সমন্বিত হয়, তখন ডিজিটাল লার্নিংয়ের কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই এ ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post