কোনো সরকারি ভবনে হামলা ঘোর অপরাধ; আর সেটা যদি কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন করে, তাহলে আরও গুরুতর অপরাধ। ব্যবসায়ীরা দেশের আইন মেনে ব্যবসা করেন। আর আইন মানাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে। কিন্তু কোনো বিষয়ে কোনো বিধি ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আলোচনা ফলোপ্রসূ না হলে হামলা-ভাঙচুর চালাতে হবে, এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না।
গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনের এনইআইআর বাতিলের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
সরকারি ভবনে একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল ব্যবসায়ী হামলা চালিয়ে যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য। তাদের বিরুদ্ধে অতিসত্বর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
একশ্রেণির ব্যবসায়ী আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কর ছাড়াই চোরাই মোবাইলসেট এনে শহরের অভিজাত শোরুমে বিক্রি করবে কোনো রকম তোয়াক্কা না করে, এটা হতে পারে? আর এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো সরকারি কর্তৃপক্ষ দায়ী হয়ে যাবে—এটা আরও আপত্তিকর।
সরকার মোবাইল ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য-পরিধিতে আরও ব্যাপকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মোবাইল ফোনসেট অ্যাসেম্বিলংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সরকার করহার কমিয়েছে।
সংবাদটির একাংশের তথ্যমতে, মোবাইল ফোন আমদানিতে মোট করের পরিমাণ ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে মোবাইল ফোনসেট সংযোজন বা অ্যাসেম্বলিং শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, কোনো সরকার কোনো খাতের নীতিনির্ধারণের বিষয়ে আগে জনস্বার্থ বা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, তারপর গোষ্ঠীস্বার্থের কথা বিবেচনা করবে।
করহার কমিয়ে অ্যাসেম্বলিং শিল্পকে উৎসাহিত করতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান উৎসাহিত হবে, তেমনি রাজস্ব আয় আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পাবে। মোবাইল ফোনসেটের যন্ত্রাংশ আমদানি করে যদি দেশে সংযোজন কারখানা গড়ে তোলা যায়, তাহলে সার্বিকভাবে সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। এই বাস্তবতা অনুভব করেই সরকারের দায়িত্বশীল মহল যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়টি ব্যবসায়ীদেরও চিন্তার গভীরে গিয়ে ভাবতে হবে। চোরাপথে আনা ফোনসেট বিক্রি করে তাদের শুধু উচ্চ মুনাফার কথা ভাবলে চলবে না, দেশ ও জাতির উন্নয়নের কথাও ভাবতে হবে।
আমরা মনে করি, আটককৃত ব্যক্তিরা আসলে কোনো ব্যবসায়ী কি না, ব্যবসায়ী হলে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, নাকি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কোনো মহল জড়িত, তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথভাবে তদন্ত করে দেশবাসীর কাছে খোলাসা করতে হবে। তা না হলে আবারও কোনো ষড়যন্ত্রকারী মহল ভিন্ন কোনো যুক্তির আবরণে হামলা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এ বিষয়ে শুধু সরকার নয়, সবাইকে সচেতন হতে হবে।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post