শেয়ার বিজ ডেস্ক : গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নে “শিক্ষা সুরক্ষা” প্রকল্পে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ক্যাম্পি (ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করতে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে একত্রে কাজ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
“শিক্ষা সুরক্ষা” প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশের ৮০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থী, বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রকল্প শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং শেখার মানোন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটি সহকারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিও নিশ্চিত করবে; যাতে প্রকল্প শেষ হওয়ার পরেও এর অগ্রগতি অব্যাহত থাকে।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ক্যাম্পিকে ১০টি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপনের জন্য ৩০টি ল্যাপটপ দিচ্ছে। খাগড়াছড়ি, ভোলা, নওগাঁ ও গাইবান্ধার শিক্ষার্থীরা এসব লাইব্রেরিতে কম খরচে সৃজনশীল শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। এই ডিজিটাল লাইব্রেরিগুলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অনলাইন শিক্ষাসামগ্রীতে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং গ্রামীণ শিক্ষায় ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়াও বই কর্নার, পাঠচক্র ও সৃজনশীল শেখার ক্লাবের মতো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আরো বাড়াচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীরকে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, ২৪টি বিদ্যালয়ে কিশোরী শিক্ষার্থীদের জন্য স্যানিটারি কিট নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা তাদের অনুপস্থিতি কমাতে সহায়তা করবে। “শিক্ষা সুরক্ষা” প্রকল্প শুধু শিক্ষার্থীর স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিতই নয়, বরং তাদের সার্বিক সুস্থতা এবং শেখার প্রস্তুতিও নিশ্চিত করছে। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজারেরও বেশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করে শিক্ষার্থীর স্কুলে ভর্তি, নারী শিক্ষা প্রসার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, “শিক্ষা হলো সুযোগের ভিত্তি। দুর্ভাগ্যবশত, গ্রামীণ বাংলাদেশে অনেক শিশুই এমন বাধার সম্মুখীন হয় যা তাদের স্কুল ছাড়তে বাধ্য করে। ‘শিক্ষা সুরক্ষা’ উদ্যোগের মাধ্যমে, আমরা ক্যাম্পি-এর সাথে যৌথভাবে কাজ করে ডিজিটাল রিসোর্সের সুবিধা এবং লক্ষ্যভিত্তিক শিক্ষাসহায়তার মাধ্যমে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি, যাতে তারা স্কুল থেকে উন্নতি করতে পারে। এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হলো এমন একটি মডেল তৈরি করা যা শিক্ষার সুযোগ এবং জবাবদিহিতা— উভয়কেই শক্তিশালী করবে। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রতি আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”
ক্যাম্পি-এর নির্বাহী পরিচালক রাশেদা ক. চৌধুরী বলেন, “স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের শিক্ষার প্রচেষ্টায় গুণগত পরিবর্তন আনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যবহার করে দ্রুত পরিবর্তনশীল ও উদ্ভাবনী শিক্ষণ-শেখানোর প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। আমরা আশা করি, এর ফলে শিক্ষার সুযোগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য কমবে।”
শিক্ষা ও সম্প্রদায় উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা কাজের রূপে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ১২০ বছরের ঐতিহ্যের আরেকটি নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে এই সহযোগিতা।
আমরা একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং গ্রুপ, বর্তমানে বিশ্বের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ ও গতিশীল বাজারে আমাদের কার্যক্রম রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে আমাদের ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতিতে— হেয়ার ফর গুড।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পিএলসি লন্ডন ও হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত।
এস এস
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post