দেশের প্রথম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা (ইপিজেড) চট্টগ্রাম ইপিজেড। শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। ইপিজেড তখন সাধারণ শ্রমিকদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। নান্দনিক নকশা, অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্ন সুপরিসর সড়ক, সুন্দর কর্মপরিবেশ প্রভৃতির জন্য অল্পদিনেই এটি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কমশিক্ষিত সাধারণ শ্রমিকদের আস্থার কর্মস্থলে পরিণত হয় এটি। ইপিজেড নয়, শ্রমিকদের কাছে এটি এখনও ফ্রি-পোর্ট নামে পরিচিত। সেই ‘ফ্রি-পোর্টে’ কিছু দিন আগে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকতা ব্যাহত হয়।
সিইপিজেডে দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের সাতটি কারখানা বৃহস্পতিবার থেকে আবার চালু হয়েছে। কারখানায় হামলা ও কর্মপরিবেশের অবনতির কারণে গত ১৬ অক্টোবর এসব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের আশ্বাস ও শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
সাত দিন বন্ধ থাকার পর কারখানাগুলো চালু হওয়ায় এসব কারখানার আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক থাকবে এটি অনুমিতই। প্যাসিফিক গ্রুপের যে সাত কারখানায় আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো প্যাসিফিক জিনস, জিনস ২০০০, ইউনিভার্সেল জিনস, এনএইচটি ফ্যাশন, প্যাসিফিক অ্যাকসেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যার ও প্যাসিফিক অ্যাটায়ার্স। এর মধ্যে প্যাসিফিক জিনসের কারখানা দুটি ও ইউনিভার্সেল জিনসের ইউনিট চারটি। এসব কারখানায় প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এসব কারখানায় কী ঘটছে, সেটি আমরা মনে রাখতে চাই না। এখন আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থা তৈরিতে কারও কোনো ইন্ধন আছে কি নাÑসেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যত দিন পর্যন্ত কারখানার পরিবেশ শঙ্কামুক্ত মনে না হবে, তত দিন সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে। আশার কথা, প্রথম দিন কারখানায় আনন্দের সঙ্গে কাজ করেছেন শ্রমিকরা।
বর্তমানে জিনসের পাশাপাশি নিট ও কাজের পোশাক (ওয়ার্কওয়্যার) রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রুপটির রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ৯১ শতাংশই জিনস প্যান্ট। বিশ্বের ৪৪টি দেশে তাদের পোশাক রপ্তানি হয়। রপ্তানি খাতে আমাদের পোশাকশিল্পের অবদান এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে কথা ভেবে হলেও আমাদের এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হতে পারে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বর্তমান কারণে-অকারণে যেভাবে অগ্নিদুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে তাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামগুলোয় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কারও কোনো টনক নড়ছে না। একটি দুর্ঘটনার পর আরেকটি ঘটলে আগেরটি চাপা পড়ে যায়। কারখানার নিরাপত্তা ঘাটতিজনিত বিষয়গুলোর সবগুলোই বর্তমানে বিদ্যমান শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পোশাক কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে সত্য; কিন্তু যেসব কারখানায় অনিরাপদ কর্মপরিবেশ বিদ্যমান সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই। নিজেরা সচেতন হলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post