শেখ শাফায়াত হোসেন : সমুদ্র আইন ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে ২০২২ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওশান ল’ অ্যান্ড পলিসি (বিকল্প)। এটি একটি অলাভজনক এবং অরাজনৈতিক, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
বিকল্পর সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে ও বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমুদ্র ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুনভাবে আলোচনায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সমুদ্র নিরাপত্তা, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা, সাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুনীল অর্থনীতি বিষয়ে সচেতন করতে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য একটি আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক চর্চা গড়ে তোলা, যেখানে সামুদ্রিক সম্পদ টেকসইভাবে ব্যবহƒত ও ন্যায্যভাবে বণ্টিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিকল্পর নেতারা।
তারা প্রত্যাশা করেন, এমন এক ভবিষ্যতের যেখানে সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত থাকবে এবং জনসাধারণের কার্যক্রম ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে একটি সুষম সহাবস্থান তৈরি হবে।
এর লক্ষ্য হলোÑবাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সমুদ্র আইনবিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; যাতে সর্বোপরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমুদ্র ও সমুদ্র সম্পদের সঠিক ও যথোপযুক্ত ব্যাবহার এবং নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়।
বিকল্পর নেতৃত্বে রয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল আরিফ, যিনি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। উপপরিচালক হিসেবে বিকল্পর প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে কাজ করছেন কাজী ওমর ফয়সাল, যিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও প্রকাশনা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন ড. সাবরিনা হাসান, তিনি একইসঙ্গে চীনের সাঙ্গাইয়ে অবস্থিত ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ল’তে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এযাবৎ কালে প্রতিষ্ঠানটি সমুদ্র আইনবিষয়ক কয়েকটি সেমিনার-ওয়েবিনার, কর্মশালা এবং সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করেছে। এ বছরের গোড়ার দিকে বিকল্প একটি মাসব্যাপী সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করে; যেখানে চল্লিশজনের অধিক আইনের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা সমুদ্র আইনবিষয়ক জ্ঞানচর্চায় যুক্ত হয় এবং অঙ্গীকার করে যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তারা সমুদ্র আইন গবেষণায় ভূমিকা রাখবে ও সমুদ্র আইন শিক্ষা ও উন্নয়নে নিয়মিত কাজ করে যাবে। গত ১৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি কর্মশালার আয়োজন করে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সুনীল অর্থনীতি ও পর্যটন খাত’ শীর্ষক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচনা করেন বিকল্পর গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সমন্বয়ক নাদিয়া ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বাইউস্ট) আইন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বিকল্পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন ইসতিয়াক আহমেদ ইফাত।
বিকল্পর পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল আরিফ সম্প্রতি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘গত বছর বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে সমুদ্র সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আর সমুদ্র দূষণরোধে সচেতনতা বাড়াতে ‘বিকল্প’ একটা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে। ওই প্রস্তাবটি সম্প্রতি জাতিসংঘের সমুদ্র দশকের অনুমোদন ও সমর্থন লাভ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিকল্পের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সহায়তায় এই প্রকল্পটি আগামী বছর বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী কয়েকটি জেলায় বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্প এবং এর পরবর্তী সকল কাজ দিয়ে ‘বিকল্প’ বাংলাদেশের সমুদ্র ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্র আইনবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে বলে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
প্রিন্ট করুন


Discussion about this post