রামিসা রহমান : বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সম্প্রতি জারি করা নতুন পর্যটন-নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকার ফলে দ্বীপটির প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ কমবে। একই সঙ্গে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে হোটেল, গেস্টহাউস, নৌপরিবহন, খাবার-সেবা ও আঞ্চলিক ব্যবসায়ীদের জীবন।
গত বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, নভেম্বর থেকে একাধিক নতুন নিয়ম কার্যকর হবেÑযেমন অংশ-ভ্রমণ ব্যতীত রাতযাপন নিষিদ্ধ, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক প্রবেশ সীমা, এক বছরে শুধু নির্দিষ্ট মাসে পর্যটনসেবা ও প্লাস্টিক-পলিথিন নিষিদ্ধ।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে শুধু দিনে ভ্রমণ, রাতযাপন নিষিদ্ধ; ডিসেম্বর-জানুয়ারি কিছুটা সীমিত ভ্রমণ; ফেব্রুয়ারি পুরোপুরি বন্ধ। এভাবে বছরে মাত্র সংকোচিত সময়ে পর্যটন চালু রাখার সিদ্ধান্ত পুরোনো মডেলের হোটেল-রিসোর্ট, রোড ট্রাভেল, নৌযানের জন্য কার্যকর নয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক-দুই মাস খোলা থাকলেই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে মাসের খরচ উঠবে না।
এছাড়া প্লাস্টিক, পলিথিন, সাউন্ড পার্টি, বাইক চলাচল, রাতের আলো-সাজসজ্জা সব বন্ধ। অনেক পর্যটক এলেও সেই ‘ছুটি কাটানোর’ অভিজ্ঞতা মিলছে না, তাই আগ্রহ কমছে বলে তারা মন্তব্য করছেন সামাজিকমাধ্যমে।
এর সঙ্গে দিনের মধ্যে দ্রুত ঘুরেফিরে আসার কারণে স্থানীয় বাজার-হাট, স্যুভেনির শপ, নৌভ্রমণ-প্যাকেজ সবই রপ্তানি উপায় এখন কমে গেছে।
একটি রিসোর্ট মালিক বলেন, ‘দিনের চার ঘণ্টার মধ্যে ঘোরাঘুরি করিয়ে রাতের হোটেল বিল কি পূরণ হবে?’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ পরিবেশ-সুরক্ষার জন্য জরুরি হতে পারে, কিন্তু বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ ও ব্যবসায়ী প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নেয়া হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তথ্যভিত্তিক আলোচনা হয়নি, বিকল্প সময় বা সহায়তা ঘোষণা হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, তারা প্রস্তুত ছিল না এমন কঠোর নিয়মের জন্য।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post