শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস স্প্রিং/ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আশাব্যঞ্জক ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অর্জন করেছে। গত ২-৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিসে এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ১৮টি বাংলাদেশি কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ও নিশ্চিত কাজের অর্ডারের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।
কাজের অর্ডার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া, ফলপ্রসূ ব্যবসায়িক বৈঠক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
ইপিবির পৃষ্ঠপোষকতায় অংশ নেওয়া প্রদর্শকদের বাইরে আরও ১১টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি মেলায় অংশগ্রহণ করে। তারাও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ, কার্যকর ব্যবসায়িক আলোচনা এবং পরবর্তী সহযোগিতার ভালো সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ফলে ইউরোপীয় পোশাক সোর্সিং বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে।
ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা গত ২ ফেব্রুয়ারি টেক্সওয়ার্ল্ডে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ উদ্বোধন করেন। তিনি বাংলাদেশি সবগুলো স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
খন্দকার এম তালহা বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কোম্পানির সংখ্যা চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বেশি হতে পারত। তিনি ফ্রান্সে টেক্সওয়ার্ল্ডসহ প্রিমিয়ের ভিশন প্যারিসের মতো অন্যান্য বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বেশি অংশগ্রহণ বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকরা ইউরোপের বিকাশমান প্রযুক্তি, পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ধারা এবং কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক পণ্যের সোর্সিং সম্পর্কে জানতে পারবেন। এতে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো দেশীয় প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। কম খরচের প্রস্তুত করা স্টলের পরিবর্তে বড় জায়গা ভাড়া নিয়ে পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে থিমভিত্তিক নকশা ও সাজসজ্জা করা প্রয়োজন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য সংগঠন, বিশেষ করে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সক্রিয় অংশগ্রহণ, পৃষ্ঠপোষকতা এবং পেশাদারভাবে দেশীয় ব্র্যান্ডিং জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বিশ্বের ফ্যাশন টেক্সটাইল ও পোশাকের অন্যতম শীর্ষ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এতে বৈশ্বিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং সোর্সিং পেশাজীবীরা অংশ নেন।
স্প্রিং/ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি প্রদর্শকদের জোরালো পারফরম্যান্স মানসম্মত উৎপাদন, কমপ্লায়েন্স, টেকসই উদ্যোগ এবং বৈচিত্র্যময় পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
আগামী দিনে ফ্রান্সে প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও সোর্সিং ইভেন্টে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও জানিয়েছে দূতাবাস।
টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সফলতা বিশ্বব্যাপী পোশাক ক্রেতাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বাজার বৈচিত্র্য আনতে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বা বাণিজ্য মেলায় ধারাবাহিক অংশগ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post