নিজস্ব প্রতিবেদক : লেনদেন খরা কাটছে না দেশের পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে গতকাল আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমেছে। এদিকে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দরও কমেছে।
ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে ওঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তবে ডিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯৭টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৭৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে ৭৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২২১টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৮১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর।
একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৮১টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে ৪৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
জেড ক্যাটেগরির ৯৫টি কোম্পানি ও ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৫৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ২৬টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বেশির ভাগ ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ১৪টি ফান্ডের ইউনিট দর বেড়েছে, বিপরীতে ছয়টি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৪টি ফান্ডের ইউনিট দর।
ডিএসইতে গতকাল মোট ১১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৬টি শেয়ার ও ইউনিট এক লাখ ২৭ হাজার ১৬৮ বার হাতবদল হয়েছে। এরই জের ধরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৭৮ কোটি ১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভেলো আইসক্রিম, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক এবং সোনালী পেপার।
এদিকে রাজধানীর আগারগাঁও-এ বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, আমাদের মানসিকতা পাল্টাতে হবে। গণতান্ত্রিক ও সততা চর্চা করতে হবে ও সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ে হতাশ হওয়া যাবে না। সবার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে এবং পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনতে হবে। কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে বাস্তব অবস্থা বুঝে কাজ করতে হবে এবং গুজব ছড়াতে দেয়া যাবে না।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সূচকের উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করবে। সামনে বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post