নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা চূড়ান্ত করা হতে পারে। তিনি বলেন, নীতিমালাটি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একাধিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদিত হবে।
গত বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, নতুন নীতিমালায় সারের সরবরাহ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং দামও বাড়বে না। বরং এখন দাম নিম্নমুখী।’
ইউরিয়া ব্যবহারে সতর্কতা জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কৃষকদের ইউরিয়া সারের ব্যবহার নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে। অনেক সময় তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করেন, বিশেষ করে ইউরিয়া। এতে গাছ সবুজ ও বড় দেখালেও ফলন বাড়ে না, বরং জমির ক্ষতি হয়।’
তিনি জানান, ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে ডিএপি সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ ডিএপি সারের মধ্যেও প্রায় ২০ শতাংশ ইউরিয়া থাকে।
নতুন সার নীতিমালায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে লাইসেন্স ব্যবস্থায়। আগে একজন সার ডিলারকে বিসিএস, বিআইডিসি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স নিতে হতো। এখন থেকে একটি লাইসেন্সেই সব ধরনের সার বিক্রি করা যাবে। এছাড়া নতুন লাইসেন্স প্রদানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে, যা দুর্নীতিমুক্তভাবে অনুমোদন দেবে। উপদেষ্টা বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে লাইসেন্স দেয়াÑএসব অনিয়ম দূর করা হবে।’
সার কারখানায় গ্যাসের দাম ১৬ থেকে ৪০ টাকায় বেড়ে গেলেও কৃষকের সারের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন কৃষি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কৃষকের রেট একই থাকবে, সরকার এর জন্য পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেবে।’
উপদেষ্টা জানান, গত মৌসুমে বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছেÑপ্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে আমন ধান কাটার কাজ চলছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ফলনও বাম্পার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আলুর ক্ষেত্রেও গতবার রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে; তবে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যখন ভালো উৎপাদন হয়, তখন কৃষকরাও অনেক সময় ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই আলু ও পেঁপে চাষিদের জন্য দাম নিশ্চিত করা এখন জরুরি।’
পেঁয়াজের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগে পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ ব্যবহারের ফলে এবার আমদানি করতে হয়নি। বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন ৭০-৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য সহনীয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কৃষক যেন লাভবান হন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের কৃষি খাত আরও আধুনিক হয়।’
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post