পোশাক শিল্প আমাদের জাতীয় আয়ের প্রধান উৎস। ৮১ শতাংশ রপ্তানি আয় আসে পোশাক খাত থেকে। এই পোশাক খাতের কারখানাগুলো যদি ক্রমেই বন্ধের দিকে ধাবিত হয়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে। জাতীয় অর্থনীতিকে স্বাভাবিক গতিতে রাখতে হলে পোশাক খাতের কারখানাগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম ইপিজেডসহ বিভিন্ন স্থানে ২২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে এ বছরের শুরু থেকে চলতি মাস পর্যন্ত বন্ধ হয়েছে ১১টি কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিক পাঁচ হাজারের বেশি। শিল্প পুলিশের হিসাবে ২২টি কারখানা বন্ধ হলেও সংখ্যাটা আরও বেশি।’
দেশের পোশাক খাতের এই দুরবস্থার কারণে যদি হাজার হাজার কর্মী বেকার হয়ে যায়, তার একটি নেতিবাচক ক্রিয়া যেমন কর্মসংস্থানে পড়বে, তেমনই অর্থনীতিতেও নেমে আসবে কালো আঁঁধার। এই আঁঁধার থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হলে কারখানা বন্ধের কারণগুলো অনুসন্ধান করতে হবে। যেসব কারণে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তার সুষ্ঠু প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়তেই থাকবে।
ইপিবির এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ইউএস ডলারের পণ্য। এ রপ্তানি গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম। গত বছর নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছিল ৪১২ কোটি ডলারের পণ্য। এই যে রপ্তানি আয়ের ক্রম হ্রাস, এটা যদি রোধ করা না যায়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।
আরেকটি পরিসংখ্যানে হতবাক হওয়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে। বিজিএমইএর হিসেবে, চট্টগ্রামে তাদের সদস্যভুক্ত কারখানা ৬৯৯টি। এর মধ্যে সচল ৬১০টি, তবে বর্তমানে চালু আছে ৩৪৮টি কারখানা। বন্ধ হওয়া ২২ পোশাক কারখানার মধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডে রয়েছে চারটি, যেগুলো গত পাঁচ মাসে বন্ধ হয়েছে। ইপিজেডের এসব কারখানায় মোট ৪ হাজার ৮১৮ শ্রমিক কাজ করতেন। বাকিগুলোতে আরও চার হাজারের মতো শ্রমিক কাজ হারিয়েছে।
পোশাক খাত জাতির জন্য, জাতীয় অর্থনীতির জন্য এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি বড় বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যে পণ্যের প্রভাব, যে পণ্য বৈদেশিক মুদ্রায় আমিদানি ব্যয় মেটায়, অবকাঠামো তৈরিতে শক্তি জোগায়- সেই পোশাক পণ্যকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। যদি আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে পোশাক খাতের ভাবমূর্তি আমরা ধরে রাখতে না পারি, বিদেশি বায়াররা যদি একবার বিমুখ হয়, তাহলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
আমরা মনে করি, তাহলে আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। পোশাক খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংকটের সমাধান ও সম্ভাবনার আলোকে অন্তর্নিহিত কারণগুলো সবার সামনে উন্মোচন করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই সংকটমুক্ত হতে পারে এ শিল্প- আমরা এটাই মনে করি।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post