শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররা মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নে যথেষ্ট তৎপরতা দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পিইউআরএল নামক বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ে ধীরগতির কারণে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা-বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি চলতি জানুয়ারি মাসের অগ্রগতিকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে অভিহিত করেন এবং মিত্রদের প্রতিশ্রুত সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মূলত গত আগস্ট মাসে এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সংঘাত মোকাবিলার মূল দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে।
সেই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনে কিয়েভে পাঠানোর এই ন্যাটো-সমন্বিত উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, অংশীদারদের সঙ্গে করা চুক্তির বাস্তব ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নই এখন ইউক্রেনের টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি। জেলেনস্কি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ না করলেও বিগত কয়েক মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তহবিল সংগ্রহের গতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে।
গত নভেম্বরে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, বছর শেষে পিইউআরএলে মোট বিনিয়োগ পাঁচ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ডিসেম্বরে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদার তুলনায় তহবিলের প্রবাহ অত্যন্ত ধীর।
এই ধীরগতির পেছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতভেদও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস চায় ইইউ-সমর্থিত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর (১০৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণ সুবিধা ব্যবহার করে কিয়েভ যেন মার্কিন অস্ত্রই ক্রয় করে, যাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ভিন্ন মত পোষণ করছেন।
তার যুক্তি হলো, ইইউ’র তহবিল মূলত ইউরোপীয় অস্ত্রশিল্পের বিকাশে এবং ইউরোপ থেকে অস্ত্র কিনতেই ব্যয় করা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার জন্য নয়। এই নীতিগত দ্বন্দ্ব অস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ন্যাটোর অধিকাংশ সদস্য এই উদ্যোগে যুক্ত থাকলেও হাঙ্গেরি, ইতালি ও স্লোভাকিয়ার মতো কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ইউরোপীয় ঐক্যে ফাটলের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে। মস্কোর মতে, এভাবে অস্ত্র পাঠিয়ে যুদ্ধের ফলাফল পরিবর্তন করা যাবে না, বরং এতে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। মার্কিন নীতির পরিবর্তন এবং ইউরোপের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের মধ্যে কিয়েভ এখন অস্ত্র সরবরাহের নিশ্চয়তা নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post