শেয়ার বিজ ডেস্ক : মানব জিন বিশ্লেষণে বিশ্বে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ফাউন্ডেশন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) মডেল চালু করল চীন। সাংহাইয়ে উন্মোচিত মডেলটি মানব ডিএনএর ক্ষুদ্র জিনগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে রোগের ঝুঁকি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারবে। বংশপরিচয় ও আত্মীয়তা শনাক্তের কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ডিএনএ তথ্যের ভিত্তিতে জীবনের বিভিন্ন ধাপে রোগের আশঙ্কা আগেই জানাতে পারবে এই মডেল।
সমপ্রতি শাংহাইয়ের মডেল স্পিড স্পেস উদ্ভাবন কেন্দ্রে উন্মোচন করা হয় মডেলটির, যার নাম এসএনপিবিএজি। জিনোমিক বিশ্লেষণের জন্য নির্মিত বিশ্বের প্রথম লার্জ এআই মডেল এটি।
একক নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম বা এনএসপির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে এই মডেল। এসব এসএনপি ঠিক করে মানুষের উচ্চতা, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। এখন এ প্রযুক্তি বংশানুসন্ধান ও আত্মীয়তা শনাক্তে ব্যবহার করা হয়।
শাংহাই ফেইপু ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি কোং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা থাং কুন জানান, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে এসএনপি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়; জিনের পারস্পরিক জটিল সম্পর্ক বিবেচনায় আসে না। এসএনপিবিএজি সেই জটিল সম্পর্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে জৈবিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।’
ভবিষ্যতে এই মডেল চীনের সার্বভৌম জিনোম ডাটাবেস গঠনে সহায়তা করবে, এআই-চালিত ওষুধ আবিষ্কার ত্বরান্বিত করবে এবং লক্ষ্যবস্তু বাছাইয়ের সাফল্য দ্বিগুণ বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফেইপু ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজির সিইও লু শিথোং জানালেন, ‘নন-ইনভেসিভ প্রি-নাটাল স্ক্রিনিং এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ। বর্তমানে জাতীয় বিমায় সীমিত কিছু রোগ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শিশুদের ২০ হাজারের বেশি বিরল রোগ রয়েছে। এ পরিসর বাড়াতে সাংহাই চিলড্রেনস হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।’
এ জিনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ভবিষ্যতে নন-ইনভেসিভ প্রি-নাটাল স্ক্রিনিং আরও বিস্তৃত পরিসরে বিরল রোগ শনাক্ত করতে পারবে বলে জানান গবেষকরা।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post