শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে শুল্ক আরোপের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। বৃহস্পতিবার জার্মান পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী হলেও কোনো ধরনের অন্যায্য চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।
প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সামপ্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ড ক্রয় বা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ডেনমার্ক তথা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র মতভেদ সৃষ্টি হয়।
এই বিরোধের জেরে ট্রাম্প ইউরোপীয় পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে গত সপ্তাহে দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তার অবস্থান কিছুটা শিথিল করেন।
সেই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে ইইউ নেতাদের এক জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মার্কিন শুল্ক হুমকি মোকাবিলায় অভূতপূর্ব ঐক্য প্রদর্শিত হয়েছে বলে মার্জ উল্লেখ করেন। জার্মান চ্যান্সেলর তার ভাষণে বলেন, ‘গত সপ্তাহের সম্মেলনে আমরা প্রমাণ করেছি যে, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। আমরা একমত হয়েছি, শুল্কের ভয় দেখিয়ে আমাদের আর দমানো যাবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, যারা মনে করেন শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের ওপর নীতি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব, তাদের জেনে রাখা উচিত, আমরা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম।
মার্জের এই বক্তব্যকে বিশ্ব রাজনীতিতে ইউরোপের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বা স্বনির্ভরতার একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
যদিও দাভোসের আলোচনার পর বর্তমানে একটি সম্ভাব্য ‘ফ্রেমওয়ার্ক ডিল’ নিয়ে কথা চলছে, যেখানে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সার্বভৌমত্ব-সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে চ্যান্সেলর মার্জ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি হলেও তা হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে, কোনোভাবেই ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অধীনস্থ’ হিসেবে কাজ করবে না।
প্রিন্ট করুন




Discussion about this post