এফ আই মাসউদ : পবিত্র রমজান মাস এলেই বাজারে খেজুরের চাহিদা বাড়ে। সেইসঙ্গে বাড়তে দেখা যায় দামও। তবে এবার আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ছাড় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার ও মানভেদে দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে রমজান জুড়ে খেজুরের দামে বড় ধরনের ওঠানামার শঙ্কা কম।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের বিক্রমপুর ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক নজরুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘খেজুরের দাম সামান্য বেড়েছে, তবে খুচরা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য বাড়েনি। রমজানের আগ মুহূর্তে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’
দোকানে টানানো পণ্যমূল্য তালিকা দেখিয়ে ওই বিক্রেতা বলেন, দাবাস খেজুর সাড়ে ৫০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৬০ টাকা, বরই খেজুর ৫২০ টাকা, মাশরুক ৬০০ টাকা, আলজেরিয়ান ৬০০ টাকা, মাবরুম ১ হাজার ২০০ টাকা, আজুয়া (১) ১ হাজার ২০০, আজুয়া (২) এক হাজার, মেডজুল ১ হাজার ৩০০, খুরমা ৩৬০, সুক্কারী ৮০০ এবং মেডজুল জাম্বু ১ হাজার ৬০০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।
ফুটপাতের খেজুর বিক্রেতা রুবেল জানান, ‘দাম সামান্য বেড়েছে, তবে আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে। টেলিভিশনের খবরে দেখেছি রমজান উপলক্ষে ১০ হাজার টন খেজুর আমদানি করা হয়েছে, যা বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে।’
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘খেজুর প্রতি বছরই আমদানি হয়। সরকার যদি আরও শুল্ক ছাড় দেয়, আমরা আরও বেশি খেজুর আনতে পারব। এ বছরও অন্যান্য বছরের মতোই খেজুর এসেছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ ডেলিভারি হয়েছে, বাকিটা বন্দরে, জাহাজে ও ট্রানজিটে রয়েছে। বন্দর বন্ধ থাকার কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, যার ফলে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়েছিল। তবে এখন বন্দর স্বাভাবিক হওয়ায় দাম আবার কমতে পারে।’
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে সৌদি আরব থেকে আমদানি হওয়া খেজুরের দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে দুবাই থেকে আমদানি হওয়া খেজুরের দাম গত দুই সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৪৫০-৫০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রমজান মাসে খেজুরের দাম স্থিতিশীল রাখতে আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দিয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই সুবিধা চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে খেজুরের দাম ধরনভেদে প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। বহুল বিক্রীত জাহিদি পাঁচ কেজি খেজুর পাইকারিতে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইরানি মরিয়ম পাঁচ কেজি খেজুর ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাদামতলী পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক মাসে খেজুরের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এখনো কম। সৌদি, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের দাম বেশি থাকায় আমদানিকারকরা বেশি দামে কিনে, আমাদেরও বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ এবার তুলনামূলকভাবে কম দামে খেজুর কিনতে পারবেন। শুল্ক কমানোর ফলে কম দামে পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি হয়েছে। নির্বাচন, বন্দরের অচলাবস্থা এবং শবে বরাতের আগে কয়েক দিনের বাড়তি চাহিদায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
বিএফএফআইএ তথ্য অনুযায়ী, রমজান উপলক্ষে দেশে খেজুরের চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে যায়। এছাড়া বছরে ৯০ হাজার টনের মতো খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার দু-তৃতীয়াংশই বিক্রি হয় রমজান মাসে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিতের পর পুরোদমে কাজ চলছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে জাহাজে পণ্য ওঠা-নামাসহ সব কাজ চলছে। এর আগে রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশের ডাকা ধর্মঘট মধ্যরাতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। গত রোববার রাত থেকে সব কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post