শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭
  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শেয়ার বিজ
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
➔ ই-পেপার
No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
No Result
View All Result
শেয়ার বিজ
No Result
View All Result

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যবসা বান্ধব গভর্নর!

Share Biz News Share Biz News
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬.১:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিভাগ - অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, পত্রিকা, প্রথম পাতা, শীর্ষ খবর ➔ প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
A A
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যবসা বান্ধব গভর্নর!
36
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Linkedin

আনোয়ার হোসাইন সোহেল : বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ২৫ বছর আমলা, শিক্ষক ও ব্যাংকারদের মধ্য থেকে গভর্নর করা হলেও তারা দেশের অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বারবার হোঁচট খেয়েছেন। তবে নতুন সরকার বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে এবার ভিন্নমাত্রা যোগ করতে ব্যবসায়ীদের থেকেই গভর্নর পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও নতুন সরকার বলছে, দেশের দুর্বল ব্যাংক খাতকে টেনে তুলতে, বন্ধ কল-কারখানা এবং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান চালু করে অর্থনীতির গতি সঞ্চার করতে তার হাতে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে’ এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে ঊর্ধ্বতন পদে পদোন্নতি নিয়ে অস্বস্তি, কর্মকর্তাদের অসন্তোষ এবং সরকারের সঙ্গে নীতিগত মতভেদ-এসব মিলিয়েই এ সিদ্ধান্তের পথ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এক ধরনের মত পার্থক্য  থাকে। ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী নীতি সহায়তা পান না। এবার তৃণমূলের একজন ব্যবসায়ী আর্থিক খাতের কেন্দ্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে সহজেই। কারণ নতুন গভর্নর দেশের ব্যাংক খাত ও ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে গভর্নরের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেতরে ভেতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে থাকা, বদলি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পুনর্গঠন নিয়ে কর্মকর্তাদের একটি অংশ সরব হন।

বিশেষ করে আর্থিক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি পদক্ষেপ এবং কিছু পুরোনো সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দ্বিমত দেখা দেয়। কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ দ্রুত এবং পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের কথা বলেন। তিনি ভেঙে দেন ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর তদারকি বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেন। কিন্তু পাঁচ মার্জার বা একীভূত করার মতো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক সিদ্ধান্তে একমত হওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুদ্রানীতি প্রণয়ন, সুদের হার নয়ছয় থেকে বেরিয়ে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও ১০ শতাংশ নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নিয়ন্ত্রণ, ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে বিক্রি নয়, বরং বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি রিজার্ভেও স্থিরতা দেখা যায়। যে কারণে বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে (গ্রস রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার) আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে নেট রিজার্ভ এখন ৩০ বিলিয়ন ডলার। আমদানি নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ভিন্নমত ছিল বলে জানা গেছে। সাবেক একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘গভর্নর যদি কঠোর সংস্কারমুখী হন, তবে স্বল্পমেয়াদে কিছু অস্বস্তি তৈরি হয়। সেই অস্বস্তি অনেক সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করে।’

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক পরিবর্তন চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় সাবেক মুখ্য  অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, গভর্নর বদলে পুরো ঘটনাপ্রবাহ নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। নতুন সরকার এসে গভর্নর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শোভনীয় হয়নি; আরও মসৃণ হতে পারত। কারণ, সদ্য বিদায়ী গভর্নরকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি কিছু সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তার অবদান, এর স্বীকৃতি দেওয়া যেত। তার প্রস্থানের প্রক্রিয়া দুঃখজনক। এটি সংকেত দেয়, ভবিষ্যতে যোগ্য লোক এ ধরনের পদে আসতে চাইবেন না।

ড. জাহিদ আরও বলেন, দেশের আর্থিক খাতে সংস্কারের প্রয়োজনের কথা কেউ অস্বীকার করবেন না। নতুন গভর্নরের কাছে প্রত্যাশা হলোÑযে সংস্কার শুরু হয়েছে, এর ধারাবাহিকতা রাখবেন। এ ছাড়া তিনি অপেক্ষমাণ সংস্কারগুলো করবেন। আর্থিক খাত যেন দুর্দশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে চলতে পারে, এটা নতুন গভর্নরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যে সংস্কারগুলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় চলছে, তা চলমান রাখতে হবে।

ড. জাহিদ বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনসহ সংস্কারগুলো চলমান রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। এ ছাড়া দুর্বল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করার বিষয়টি চলমান রাখতে চ্যালেঞ্জ আছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা নতুন গভর্নরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অবশ্য এ দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে করা কঠিন। সার্বিকভাবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় এ দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদটি ‘হট সিট’। তাকে সংস্কার করার পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের নানা ধরনের চাপ সামলাতে হয়। তবে গভর্নরকে যেভাবে সরানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী) ও ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই বিস্তৃত আলোচনার জš§ দিয়েছে। সরকার ব্যাংক খাত সংস্কারকে সত্যিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কি নাÑএ প্রশ্ন এখন নীতিনির্ধারক থেকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও উচ্চারিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু মুদ্রানীতি প্রণয়নকারী একটি সংস্থা নয়; এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান নিয়ন্ত্রক ও তদারকি কর্তৃপক্ষ, আর্থিক স্থিতিশীলতার শেষ ভরসা। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে কে আসছেন, তার পেশাগত পটভূমি কী এবং তিনি কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেনÑএসব প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পায়। বিশেষত যখন ব্যাংক খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। একজন ব্যবসায়িক পটভূমির ব্যক্তিকে এই দায়িত্বে বসানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য স্বার্থ-সংঘাতের আশঙ্কা উত্থাপিত হওয়াটাও অযৌক্তিক নয়। ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বুঝতে সহায়ক হতে পারেÑএ কথা সত্য। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাজ করপোরেট স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করা নয়; বরং প্রয়োজনে সেই স্বার্থের বিরুদ্ধেও কঠোর ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রানীতির বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং দুর্বল বা অনিয়মে জড়িত ব্যাংকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের পরিবর্তনের খবরে পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখেই আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ অন্যান্য রেগুলেটরি বডি যৌথভাব কাজ করবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গভর্নর বদল হলেও যদি মুদ্রানীতি, আর্থিক খাত সংস্কার ও ব্যাংক তদারকির ধারাবাহিকতা থাকে, তবে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে।

চ্যালেঞ্জের পাহাড়

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখেÑউচ্চ খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং তারল্য সংকট। এই প্রেক্ষাপটে গভর্নরের পদ পরিবর্তন সময়োপযোগী কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ড. আহসান এইচ মনসুরের সময়ে কিছু কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ দেখা গেলেও সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এখন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সামনে প্রশ্নÑতিনি কি আগের সংস্কার ধারাবাহিক রাখবেন, নাকি নতুন কৌশল গ্রহণ করবেন?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, নতুন গভর্নর বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো চালুর ক্ষেত্রে নীতিগত সহায়তা প্রদান করবেন। এছাড়া চলমান সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখবেন।

অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংকট

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি ছিল। ডিজিটাল নজরদারি জোরদার, স্বয়ংক্রিয় তদারকি ব্যবস্থা এবং আর্থিক অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহারÑএসব বিষয়ে অগ্রগতি ধীরগতির বলে অভিযোগ রয়েছে। গভর্নর পরিবর্তন সেই সংস্কারের গতি বাড়াবে, নাকি আরও বিলম্ব ঘটাবেÑতা এখন দেখার বিষয়।

জনস্বার্থ নাকি চাপের ফল?

সরকারি প্রজ্ঞাপনে ‘জনস্বার্থ’ শব্দটি ব্যবহƒত হলেও, এর নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে জনমনে কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। আবার অন্য অংশের মতে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা থাকলে নীতির কার্যকারিতা কমে যায়। এই দুই বাস্তবতার মাঝখানেই গভর্নর পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলের করায়ত্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

টিআইবি মনে করে, ব্যাংক খাতের সুশাসন, শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগ সাংঘর্ষিক। অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দলীয় বিবেচনা ও স্বার্থান্বেষী মহলসহায়ক কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর অবস্থা, খেলাপি ঋণের বিস্তার ও অর্থ পাচারের ঘটনা দেশের অর্থনীতিকে নাজুক অবস্থায় নিয়ে গেছেÑএ বাস্তবতা বর্তমান সরকারের অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আস্থা পুনর্গঠন। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতি আনা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখাÑসবই এখন তার কাঁধে।

অন্যদিকে ড. আহসান এইচ মনসুরের বিদায় আর্থিক খাতে সংস্কার উদ্যোগের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে বাস্তবতা হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তন নতুন কিছু নয়।

তবে গভর্নরকে কেন ছাড়তে হলোÑতার একক কোনো কারণ হয়তো নেই। প্রশাসনিক অসন্তোষ, নীতিগত মতভেদ, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জÑসবকিছু মিলিয়েই এই সিদ্ধান্তের পটভূমি তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে, নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কত দ্রুত স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

বাংলাদেশের ১১.৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে

Next Post

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

Related Posts

ফ্লাইট শঙ্কা মাথায় নিয়েই আত্মশুদ্ধির সফর শুরু
শীর্ষ খবর

ফ্লাইট শঙ্কা মাথায় নিয়েই আত্মশুদ্ধির সফর শুরু

টিকা সংকটে এবার যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা
শীর্ষ খবর

টিকা সংকটে এবার যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা

রেমিট্যান্স সংগ্রহে সিলভার অ্যাওয়ার্ড পেল কৃষি ব্যাংক
অর্থ ও বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামে ডলার কিনল

Next Post
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

ফ্লাইট শঙ্কা মাথায় নিয়েই আত্মশুদ্ধির সফর শুরু

ফ্লাইট শঙ্কা মাথায় নিয়েই আত্মশুদ্ধির সফর শুরু

টিকা সংকটে এবার যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা

টিকা সংকটে এবার যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা

রেমিট্যান্স সংগ্রহে সিলভার অ্যাওয়ার্ড পেল কৃষি ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামে ডলার কিনল

দুই বছরে ডিএসইএক্স সূচকে যুক্ত হয়নি নতুন কোম্পানি

দুই বছরে ডিএসইএক্স সূচকে যুক্ত হয়নি নতুন কোম্পানি

বাংলাদেশকে সব রকমের সহযোগিতা দেবে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশকে সব রকমের সহযোগিতা দেবে বিশ্বব্যাংক




 

আর্কাইভ অনুসন্ধান

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

প্রকাশক ও সম্পাদক ✍ মীর মনিরুজ্জামান

তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৪৮

একটি শেয়ার বিজ প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠান

(প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে)

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বিএসইসি ভবন (১০ তলা) ॥ ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ॥ ☎ 01720123162, 01768438776

  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET