নিজস্ব প্রতিবেদক : কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করতে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে যিনি সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং যিনি গভর্নরের দায়িত্বের আওতাভুক্ত কোনো ক্ষেত্রেই স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়াবেন না। বর্তমান নিয়োগকে ঘিরে এ ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন গভর্নরের ব্যবসায়িক পরিচয়ের কারণে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে তার নিয়োগে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে কি না, এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বা সাফল্যের পরিপন্থী শক্তি যাতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কৌশল ও পথরেখা প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন তিনি।
দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের সামনে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন ঝুঁকি ও প্রতিকূলতাও রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কোনগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বা হবে না, সে বিষয়ে স্বচ্ছতার স্বার্থে সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতি রোধে শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, দলবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিকে স্বাভাবিকতা দেওয়ার সব ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনারও প্রস্তাব দেন।শেষ পৃষ্ঠার পর সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিলের প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি ডিজিএফআই, এসবি, ডিবি ও এনএসআই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এবং র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট: এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ এবং সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিটটি দাখিল করেন। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানির প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কোনো গভর্নরকে অক্ষমতা বা অযোগ্যতা প্রমাণিত না হলে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না। কিন্তু এসব বিধান উপেক্ষা করে সরকার আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন জানান, আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একজন ঋণখেলাপি এবং বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে রিটটির শুনানি হতে পারে।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post