চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল রোববার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ জেটি পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে এসে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর যেভাবে এগিয়েছে, সেটা ইতিবাচক। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আমরা চাই, সমন্বিতভাবে কাজ করে এই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজেদের অবস্থানের বাইরে এসে বৃহত্তর স্বার্থে ভাবার আহ্বান জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘যে যার সংস্থার পক্ষে কথা বলি ঠিক আছে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্বার্থটা যদি একটু বড় করে দেখি, অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়।’
এ সভায় ট্যারিফ, শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি, কাস্টমসের কার্যক্রমসহ নানা বিষয় উঠে আসে। এসব বিষয় নিয়ে ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর এখন শুধু সম্ভাবনাময় নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত পোর্ট। সামনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সবার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, কিছ– ক্ষেত্রে ছাড়ও দিতে হবে।’
কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা থাকবেই। কখনো কন্টেইনার জট হবে, আমদানিকারকও বিপাকে পড়তে পারেন। তবে এসব সমস্যাকে কমিয়ে এনে বড় পরিসরে বন্দর ও রাষ্ট্রের লাভ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
সভায় কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ব্যাখ্যা দিলেই হবে না। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এখানে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটা কোনো সংস্থার অদক্ষতার কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’ কাস্টমসের কার্যকারিতা বাড়াতে আলাদা করে আলোচনা করবেন বলেও জানান নৌ-পরিবহনমন্ত্রী।
ব্যবসায়ীদের মনোভাব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে অনেক সময় সবাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবে ব্যবসা পুরোপুরি থেমে নেই। আমাদের একটা প্রবণতা আছে, বার্গেনিংয়ের সময় নিজেদের বেশি অসহায় দেখানো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যবসা চলছে, প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাস শেষে লাভ হয়েছে কি না। এই হিসাবের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লাভ, ভবিষ্যৎ প্রজšে§র সুযোগ, এসব নিয়েও ভাবতে হবে। আজ কিছু ছাড় দিলে হয়তো কাল আপনার পরের প্রজš§ আর ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারবে।’
এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম. মনিরুজ্জামানসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post