শেয়ার বিজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে (কনটেইনার শিপ) গুলিবর্ষণের ঘটনার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবর রয়টার্স
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম (ইউকেএমটিও) ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গতকাল সকালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি কনটেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পরপরই জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ১৮ ডলারে। এর আগে মঙ্গলবারও তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরান আগে থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের প্রতিবাদ এবং পরবর্তীতে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই পদক্ষেপ নেয়।
এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানো এই যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সুযোগ দিতেই ট্রাম্প এই উদ্যোগ নেন। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণা একতরফা হওয়ায় ইরান বা ইসরায়েল এতে শেষ পর্যন্ত সায় দেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এই পথে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারের জন্য চরম উদ্বেগের।
এদিকে ইউরোপেও জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির জেলেনস্কি রুশ তেল সরবরাহের ড্র–জবা পাইপলাইন চালুর কথা বললেও ভিন্ন খবর দিচ্ছে রুশ সূত্রগুলো। জানা গেছে, আগামী ১ মে থেকে কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষক সংস্থা পিভিএম জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবর এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাÑসব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের মতে, ইউরোপ ও সুদূর প্রাচ্যের দেশগুলো এখন যেকোনো মূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post