না.গঞ্জে ৮১ টন কেমিক্যাল ও কাঁচামালের গুদাম সিলগালা
ছবি সংগৃহীত
একদিকে নন-বন্ডেড গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের মজুত, অন্যদিকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন রাসায়নিকের কোনো হদিস নেই। নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) পৃথক অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এম আর ট্রেডার্সের গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। অন্যদিকে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটের অস্তিত্ব
পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দার এই অভিযান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির পর সেগুলো প্রকৃতপক্ষে কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উৎপাদন খাতে ব্যবহারের শর্তে আমদানি করা রাসায়নিক খোলাবাজারে বিক্রি কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের উৎস, মালিকানা ও রাজস্ব পরিশোধের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, রোববার (১ নভেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টানবাজারের এম আর ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুত পাওয়া যায়।
অভিযানকালে এসব পণ্য আমদানি, ক্রয় কিংবা বৈধভাবে মজুত রাখার পক্ষে কোনো প্রয়োজনীয় দলিলপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করে দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা। এত বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের বৈধ উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডে অভিযান চালায় সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর সি-১২৯৩৪৮২ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করেছিল। কিন্তু অভিযানকালে আমদানি করা এসব রাসায়নিকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠেছে, উৎপাদনকাজে ব্যবহারের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কেমিক্যাল গেল কোথায়? সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানায় তা ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাইরে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। আমদানি করা পণ্যের মজুদ ও ব্যবহারসংক্রান্ত হিসাবের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একটি প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস না পাওয়া এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নন-বন্ডেড গুদামে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক মজুতের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না সংস্থাটি।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জব্দ করা কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের নথি, মজুতের বৈধতা এবং বন্ড সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহারের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ড সুবিধার মূল উদ্দেশ্য রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করা। এ সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত শর্তে উৎপাদনকাজে ব্যবহারের কথা। কিন্তু সেই কাঁচামাল যদি উৎপাদনের বাইরে চলে যায় কিংবা খোলাবাজারে বিক্রি হয়, তাহলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে বৈধভাবে আমদানিকারক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানে বিপুলসংখ্যক টেক্সটাইল, ডাইং ও গার্মেন্ট কারখানায় রাসায়নিক কাঁচামাল ব্যবহূত হয়। ফলে এসব পণ্যের আমদানি, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণে যথাযথ নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, এখন দেখার বিষয়, টানবাজারের ৮১ দশমিক ৬ টন কেমিক্যালের প্রকৃত মালিকানা ও উৎস কী এবং সিম ফেব্রিক্সের আমদানি করা ৪৫ টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট শেষ পর্যন্ত কোথায় গেল—তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে বন্ড সুবিধার আড়ালে সম্ভাব্য অনিয়মের চিত্রও স্পষ্ট হতে পারে।
নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুত পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। পণ্যগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এম আর ট্রেডার্সের গুদাম সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটের হদিস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা। শুল্ক-কর ফাঁকি ও বন্ড সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহার খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
গতকাল মঙ্গলবার কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, এম আর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুতের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটি কোনো দলিল দেখাতে পারেনি। এ কারণে পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অন্যদিকে একই অভিযোগ যাচাই করতে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর সি-১২৯৩৪৮২ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করেছিল। অভিযানকালে এসব কেমিক্যালের হদিস পাওয়া যায়নি বলে জানায় সংস্থাটি। কেমিক্যালগুলো উৎপাদনকাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস না পাওয়া এবং নন-বন্ডেড গুদামে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল মজুতের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, পণ্যগুলোর প্রকৃত উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য, বন্ড সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং কোনো রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে কি না, তা নিরূপণে তদন্ত চলছে।