অল্প লাভেই মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানে থাকলেও বিনিয়োগ এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আগে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও এখন তেমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। সামান্য মুনাফা হলেই তা তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকালের বাজারচিত্রেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই মুনাফা তুলতে থাকেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। মূলত আগামীতে বাজার পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। কোনো কারণে যদি বাজারচিত্রে পরিবর্তন আসে সেই ভীতি থেকেই বিনিয়োগকারীরা বেশি লাভের আশায় বসে না থেকে এক কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে অন্য কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। কেউ আবার অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে অপেক্ষা করছেন শেয়ারদর কমার। কাক্সিক্ষত দরে এলেই তারা শেয়ার কিনছেন।

গতকাল বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি মুনাফা তুলেছেন বিমা খাত থেকে। পাশাপাশি ওষুধ খাত থেকেও মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা গেছে। করোনাকালের প্রথম ভাগ থেকেই বিমা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে মাঝখানে খাত বদল করে বিনিয়োগকারী অন্যসব খাতে ঝুঁকে পড়েন, যার জের ধরে বিমা খাতের শেয়ারদর কিছুটা কমে। তখন যারা শেয়ার কিনেছিলেন এসব বিনিয়োগকারীই গতকাল এই খাত থেকে মুনাফা তুলছেন। দিন শেষে মোট লেনদেনে এই খাতের অবদান দাঁড়িয়ে ১৯ শতাংশ।

এদিকে বিমা খাতের মতো গতকাল ওষুধ ও রসায়ন খাত থেকেও মুনাফা তুলতে দেখা গেছে বিনিয়োগকারীদের। তবে দিনের শেষের দিকে এই খাতের অথিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। তবে মোট লেনদেনে এই খাতটি বিমা খাতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। গতকাল দিন শেষে মোট লেনদেনে এই খাতের অবদান দেখতে পাওয়া প্রায় ২১ শতাংশ। এছাড়া গতকাল ব্যাংকিং, টেলি যোগাযোগ ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যায়।

অন্যদিকে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় গতকাল দিন শেষে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমতে দেখা যায়। যার জের ধরে পুঁজিবাজারের সূচকও কমে যায়। গতকাল ডিএসইর সূচক কমে ১৬ পয়েন্ট। দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয় হাজার ৮৬২ পয়েন্টে। এদিকে গতকাল ডিএসইতে মোট ৭৭৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়।