উল্টোপথে হাঁটছে পুঁজিবাজার!

রুবাইয়াত রিক্তা: দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন নিয়ে গর্ব করা গেলেও এর একটি বিরাট অংশ পুঁজিবাজার এখন উল্টোদিকে যাচ্ছে। ২০১০ সালের ধসের পর পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। ২০১৩ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন সূচক ডিএসইএক্স চালু করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সূচকের গতি। ২০১৪ সালে কিছুদিন ডিএসইএক্স সূচকের পাঁচ হাজার ১০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে লেনদেন হলেও ফের চার হাজার পয়েন্টে নেমে যায়। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার হাজার পয়েন্টের ঘরে অবস্থান করে ডিএসইএক্স সূচক। ২০১৭ সালে পুঁজিবাজার ফের ঘুরে দাঁড়ায়। বিনিয়োগকারীরাও ফের নতুন আশায় বিনিয়োগ শুরু করেন। সূচকও ধীরে ধীরে পাঁচ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করে। ২০১৭ সালের পুরোটা সময় পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানেই থাকে। ২০১৭ সালের শেষের দিকে সূচক ছয় হাজার পয়েন্টের মাইলফলকও অতিক্রম করে। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে বাজার আবার নিম্নমুখী হতে থাকে। ২০১৯ সালের শুরু থেকে বাজারে বড় পতন শুরু হয়। যতই দিন যাচ্ছে, ততই বাজার নিম্নমুখী হচ্ছে। সূচক নামতে নামতে ফের পাঁচ হাজার পয়েন্টে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার সংস্কারে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। বরং বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে চরম আস্থাহীনতায় থেকে এখন তাদের মূল পুঁজি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই লোকসান দিয়েও অনেকে বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। বিনিয়োগকারীরাই যদি বাজারে না থাকে, তাহলে বাজারের সংস্কার করে আর কী লাভ হবে?
গতকাল ডিএসইতে ৮৮ পয়েন্ট পতন হয় সূচকের। লেনদেন হয় ৩০০ কোটি টাকার ঘরে। ৮৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। দর বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ বা ৩৭টি কোম্পানির। এর মধ্যে ব্যাংক খাতে বেড়েছে সাতটি কোম্পানির দর। বস্ত্র খাতে ছয়টির, ওষুধ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে পাঁচটি করে, খাদ্য খাতে চারটির, বিমা খাতে তিনটির, জ্বালানি ও প্রকৌশল খাতে দুটি করে এবং বিবিধ, সিমেন্ট, সেবা ও আবাসন এবং চামড়াশিল্প খাতে একটি করে কোম্পানির দর বেড়েছে। বাকি খাতগুলো শতভাগ নেতিবাচক ছিল। ১৭ শতাংশ লেনদেন হয় বিমা খাতে। প্রকৌশল খাতে ১২ শতাংশ ও ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০ শতাংশ লেনদেন হয়। ৯০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা সত্ত্বেও গতকাল ২০ টাকা ২০ পয়সা দরপতন হয় গ্রামীণফোনের। লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১২টি কোম্পানিরই দরপতন হয়।