মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: যশোরের চৌগাছায় মৌসুমি ফসল কলাই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচ এবং স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায়, সেইসঙ্গে লাভবান হতে পারে কৃষক। সে কারণে চৌগাছায় বৃদ্ধি পাচ্ছে কলাই চাষ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে কলাই চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
কলাইয়ের ডালে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ আমিষ থাকে। প্রোটিন ও ভিটামিন বি’র সমৃদ্ধ উৎস হলো এ ডাল। এতে প্রচুর পরিমাণে লৌহ বা আয়রন আছে বলে এটি স্বাস্থ্যকর ডাল। এটি শরীরে বল বৃদ্ধি করে, শরীরকে সক্রিয় রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, হƒদযন্ত্র সুস্থ রাখে, শুক্রবর্ধক, পেশিকোষের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, স্নায়বিক দুর্বলতা, স্মৃতি দুর্বলতা ও হিষ্টিরিয়ার মতো সমস্যা দূর করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে কলাই ডাল।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চৌগাছা উপজেলার নিচু এলাকা ব্যতীত ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ মাঠে কৃষকরা কলাই চাষ করেছেন। উপজেলাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে মাষ ও মুগ কলাইয়ের চাষ হয়েছে।
উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা, নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা, পেটভরাসহ বেশ কিছু গ্রামের মাঠে চলতি বছর বিঘার পর বিঘা জমিতে কলাই চাষ করা হয়েছে। আবার বেশ কিছু জমিতে সদ্য রোপণ করা কলাই চারা বের হয়ে নতুন পাতা ছাড়তে শুরু করেছে।
খড়িঞ্চা গ্রামের চাষি আল ইমরাম বলেন, কলাই হচ্ছে কৃষকের দুঃসময়ের বন্ধু। এ চাষে কৃষককে তেমন কোনো অর্থ বা সময় ব্যয় করতে হয় না। বছরের এ সময়টি একশ্রেণির ফসলি জমি অলস পড়ে থাকে। শীত শুরু হলেই বেশিরভাগ জমিতে চাষ হবে বোরো ধান। তাই জমি ফেলে না রেখে সেখানে মাষ বা মুগ কলাই চাষ করা হয়। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে প্রতিটি জমি থেকে আশানুরূপ ফলন হবে। বাজারে কলাইয়ের বেশ চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়।
একই কথা বললেন কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, চলতি বছরে মাষ ও মুগ মিলে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন। তার মতো ওই মাঠে কৃষক সেলিম রেজা এক বিঘা, আকবর আলী দুই বিঘা এবং আন্দারকোটা মাঠে বাবুল আক্তার দেড় বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন।
পেটভরা গ্রামের চাষি আব্দুল গনি বিশ্বাস বলেন, কলাই অত্যান্ত সুস্বাদু একটি ডাল, তাই এক বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছি। ফসলে অন্য কোনো সমস্যা না থাকলেও পোকার আক্রমণ দেখা দিচ্ছে, কীটনাশক প্রয়োগে এখনও ফসল ভালো আছে। চাষি ফজলুর রহমান বলেন, আগে স্থানীয় জাতের কলাই চাষ করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি, তাই এ বছর হাইব্রিড জাতের কলাই চাষ করেছি। আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে।
কলাই যে শুধু ডাল হিসেবে ব্যবহƒত হয়, এমনটি নয়। কলাই আর কুমড়া বড়ি বাঙালি খাবার তালিকায় এখনও স্থান করে আছে। তাই প্রতিটি গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে কলাই খুবই পরিচিত এক নাম। কলাই দিয়ে কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয় এবং মুগ কলাই থেকে মুগডাল তৈরি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, উপজেলার কিছু নিচু এলাকা ব্যতীত অধিকাংশ ইউনিয়নের মাঠগুলোয় মাষ ও মুগ কলাই চাষ হয়েছে। আগে স্থানীয় জাতের কলাই চাষ হলেও এখন হাইব্রিড জাতের চাষ হচ্ছে এবং কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছেন। সে কারণে প্রতিবছরই কলাইয়ের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।




