শেয়ার বিজ ডেস্ক: বেতন বাড়ানোসহ একাধিক দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে শুরু হয়েছে রেল ধর্মঘট। এতে অংশ নিয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি রেলকর্মী, জনজীবনে যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন লন্ডনবাসী। খবর: দ্য গার্ডিয়ান।
এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি। রেল কর্মচারী সংগঠন যেমন নিজেদের অবস্থানে অনড়, তেমনি রেল কর্তৃপক্ষও। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন লন্ডনের পাতাল রেলের কর্মীরা। তারাও ডাক দিয়েছেন ধর্মঘটের।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানান, রেলকর্মীদের এই ধর্মঘট অযৌক্তিক। সরকার যেখানে জনস্বার্থে রেল পরিচালনা ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেখানে এই ধর্মঘট কোনোভাবে সমর্থন করা যায় না।
রেলকর্মীরা জানান, এই ধর্মঘটের জন্য সরকারকে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ধর্মঘটের ডাক দেয় রেল কর্মচারী সংগঠন আরএমটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিক লিঞ্চ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, দাম বাড়ছে জ্বালানির। ফলে দিনপ্রতি খরচ আগে যা ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমাদের বেতন এক পয়সাও বাড়েনি। আমাদের সামনে এখন একটিমাত্র পথ খোলাÑআর তা হলো চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে থাকা। কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি বিন্দুমাত্র আমলে নিতে চাইছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার দাবি, ধর্মঘটে আপাতত রেলকর্মীরা শামিল হয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যে এতে অংশ নেবেন নানা পেশার মানুষ। কারণ দেশের মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার খরচও বেড়েছে, কিন্তু বেতন বাড়েনি।
গত তিন দশকে যুক্তরাজ্যে এ ধরনের কোনো ধর্মঘট হয়নি। দেশটির রেল কর্তৃপক্ষ আড়াই হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারে, এতে সাশ্রয় হবে প্রায় দুই বিলিয়ন পাউন্ড। ট্র্যাক, সিগন্যাল ও লাইনম্যানদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আরএমটির নেতারা। ট্রেন অপারেটরদের বেতন কমানোসহ তাদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা কমাতে পারে সরকার।




