নিজস্ব প্রতিবেদক: উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি অর্থ ব্যাংকের বদলে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করলে একদিকে পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি বাড়বে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও কমবে। শিল্পায়নে পুঁজিবাজারকে অর্থায়নের মূল উৎসে পরিণত করতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবু এ কথা বলেন।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, ড. মিজানুর রহমান ও মো. আব্দুল হালিম।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হতে পারে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে শুধু শিল্পায়নই হবে না, একই সঙ্গে জনগণের কর্মসংস্থান হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের পুজিবাজারকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য গতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে, কিন্তু দেশের পুঁজিবাজার সেভাবে এগোচ্ছে না। এই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে পুঁজিবাজারের অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে শিল্প মূলধনের বড় অংশ আসে পুঁজিবাজার থেকে। আমাদের দেশে তার বিপরীত। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংকঋণের সহজলভ্যতা বন্ধ হওয়া দরকার। ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাওয়ার কারণে উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারে আসছে না। আবার অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছেন না। ফলে দিন দিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। দেশের স্বার্থে পুঁজিবাজারকে উন্নয়নের মাধ্যমেই অর্থনীতির মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি স্মার্ট ইকোনমি। এর অন্যতম দুটি কম্পোনেন্ট হলো স্মার্ট ক্যাপিটাল মার্কেট ও স্মার্ট মানি মার্কেট। যখন পুঁজিবাজার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাবে, তখন পুঁজিবাজারে নতুন নতুন প্রোডাক্ট আসবে ও লেনদেন বেড়ে যাবে। স্মার্ট ক্যাপিটাল মার্কেটকে যদি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তবে স্মার্ট বাংলাদেশের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত ও সহজ হবে।




