শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৮৫ পদের বিপরীতে মাত্র ১০ জন দিয়ে কোনোরকমে চলছে। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গার্মেন্ট, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস, গৃহকর্মী প্রশিক্ষণ, বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ, ইংরেজি ভাষা শিক্ষার কোর্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১২ সালে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতায় দুই একর জমির ওপর সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। একাডেমিক, প্রশাসনিক, ছাত্রাবাসসহ পাঁচটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে এসএসসি পাস বা সমমানের যুবকদের ছয় মাসমেয়াদি কম্পিউটার ও অটোক্যাড বিষয়ে বছরে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেণি পাসকৃত জনশক্তির মধ্যে গার্মেন্ট, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে বছরে ৬৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের তিন দিনের প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ, গৃহকর্মী পেশায় বিদেশগামী নারীকর্মীদের ৩০ দিনের হাউজকিপিং প্রশিক্ষণ ও দু’মাস মেয়াদি ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৪৪ আসন সংবলিত চারতলা ডরমেটরি ভবন, ৩৫টি অত্যাধুনিক কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব, ৩১টি অত্যাধুনিক কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সমৃদ্ধ অটোক্যাড ল্যাব, ৬৫টি বিভিন্ন ক্যাটেগরির অত্যাধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেলাই মেশিনসমৃদ্ধ গার্মেন্ট ওয়ার্কশপ। রয়েছে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল ড্রাইভিংসহ হাতেকলমে গাড়ির ইঞ্জিনের কাজ শেখার সুযোগ।
এদিকে জনবল সংকটের কারণে সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একাডেমিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মুছাব্বেরুজ্জামানকে। এখনও তার দায়িত্বেই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম। ৮৫ জনবলের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে উপাধ্যক্ষ একজন, প্রধান ইনস্ট্রাকটর ১২ জনের পদই রয়েছে শূন্য। ইনস্ট্রাকটর (ডিপ্লোমা) ১৮ পদের ১২টিই শূন্য রয়েছে। ইনস্ট্রাকটর নন-ডিপ্লোমা পাঁচটি পদই শূন্য। কম্পিউটার অপারেটর, প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক, সহকারী স্টোরকিপার, কেয়ারটেকার, ড্রেসার, ক্যাশিয়ার, হোস্টেল সুপার, ড্রাইভার, ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, কুক, এমএলএসএস, নিরাপত্তা প্রহরী, বাগানরক্ষক ও ক্লিনার পদ রয়েছে ফাঁকা। স্কিল ওয়ার্ক পদে ৯ জনের বিপরীতে আছেন মাত্র তিনজন। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মুছাব্বেরুজ্জামান জানান, জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন জানান, জনবল সংকট দূর করতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন।




