নিজস্ব প্রতিবেদক: ন্যায়বিচারের স্বার্থে জুলাই গণহত্যার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত দেশে ফেরত পাঠাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান। ট্রাইব্যুনালের সামনে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ক্যাডম্যান। তিনি বলেন, ‘এখানে ফেয়ার ট্রায়াল এনশিউর করা হবে, এ বিষয়টা আমরা দেখাতে চাই এবং ইন্ডিয়ার উচিত হবে যে, তারা বিচারহীনতার পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি একজন মানুষকে বিচারের পক্ষে দাঁড় করাবে। তাকে বিচার থেকে রেহাই দেয়ার পক্ষে দাঁড়াবে নাকি একটা ন্যায়বিচার হোক তার পক্ষে দাঁড়াবে।
‘আমরা আশা করি, ইন্ডিয়া একটা ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবে এবং সেভাবে আন্তর্জাতিক নর্মস মেনে তাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করবে যাতে করে তিনি এখানে প্রপারলি নিজেকে ডিফেন্ড করতে পারেন; তার নিজের আইনজীবী দিয়ে নিজের কেসটাকে মেক আউট করতে পারেন।’ এ সময় ক্যাডম্যানের সঙ্গে অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে থাকছেন। গত ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অনেক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন অফিসে জমা পড়েছে।
এর মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং আরেক মামলায় তার পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রায় ৩০০ মামলায় শেখ হাসিনার বিচার চলার মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর ভারত সরকারকে কূটনৈতিকপত্র (নোট ভারবাল) পাঠায় বাংলাদেশ সরকার।
ভারত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব বাংলাদেশকে দেয়নি। বরং ভারতে হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খবর এসেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমে। এর মধ্যে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠানোর অবস্থানে আছে ভারত সরকার। ঢাকার চিঠির জবাব দিতে দিল্লি কয়েক মাস সময় নিতে পারে, এমন কথাও বলা হয় এসব প্রতিবেদনে।




