ধানমন্ডি সিকিউরিটিজ ও প্রতিষ্ঠানটির ৩ কর্মকর্তা

১০টির বেশি আইন লঙ্ঘনে ৯ লাখ টাকা জরিমানা

আতাউর রহমান: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস ধানমন্ডি সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে (ট্রেক নম্বর-৯৮) সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফ ইসলাম খানকে দুই লাখ টাকা এবং হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস মো. কবিরুল ইসলাম ও আইটি ইনচার্জ মো. রুবেল হোসেন সজীবকে এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থাৎ ধানমন্ডি সিকিউরিটিজ এবং তাদের তিন কর্মকর্তাকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।

সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তথ্য মতে, ধানমন্ডি সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) প্রবিধানমালা, ২০২০-এর বিধি ৫(খ); সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর রুলস ১৭(৪); সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৮; মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর রুলস ৩(১) ও ৩(২); সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৬(ক); সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর রুলস ৬(১) ও ৬(৫); বিএসইসির ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশনা; সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১১ এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণ বিধি ১ লঙ্ঘন করার প্রমাণ মিলেছে।

তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে ধানমন্ডি সিকিউরিটিজকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে কমিশন। সেই সঙ্গে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত পালনে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে, অনুরূপ অব্যাহত থাকাকালীন প্রতিদিনের জন্য ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. আরিফ ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একইভাবে মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর রুলস ৩(১) ও ৩(২); সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৬(ক); সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর রুলস ৬(১) ও ৬(৫); বিএসইসির ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশনা; সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১১ এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণ বিধি ১ লঙ্ঘন করার প্রমাণ মিলেছে।

তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ ইসলাম খানকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে কমিশন।

এছাড়া হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস মো. কবিরুল ইসলামকে ৯টি এবং আইটি ইনচার্জ মো. রুবেল হোসেন সজীবকে ৩টি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান খানকে শেয়ার বিজ থেকে ফোন করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে লঙ্ঘিত উল্লিখিত আইনগুলোয় বলা হয়েছে, ট্রেক হোল্ডার আইনে সাব-রেগুলেশন (৩)-এর বিধানের প্রতি সংশয় ছাড়াই প্রতিটি স্টক ব্রোকার বা স্টক ডিলার এবং এর পরিচালক, কর্মকর্তা, নিরীক্ষক বা এর অনুমোদিত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট জাতীয় নথি, তথ্য বা স্টক ব্রোকারের কার্যাবলির পাশাপাশি পরিচালনা সম্পর্কিত ব্যাখ্যা ও নথি এক্সচেঞ্জের প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় দিতে হবে; যা কমিশনকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে চাওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির কোনো নথি, কাগজ, হিসাব, তথ্য বা ব্যাখ্যা তৈরি করতে হলে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দ্বারা বা এর অধীনে তৈরি করতে হবে। কোনো আবেদন, কোনো বিবৃতি বা কোনো তথ্য দিতে চাইলেও এই অধ্যাদেশের অধীনে দিতে হবে।

আরও বলা আছে, একজন সদস্য তার অনুমোদিত গ্রাহককে সিকিউরিটিজ লেনদেনে মার্জিন অ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে ক্রেডিট সুবিধা দিতে পারেন। তবে সেটা এই নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে। এ মার্জিন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থায় একটি ফরম বা সদস্য এবং গ্রাহকের মধ্যে সম্পাদিত লিখিত চুক্তি প্রমাণ থাকতে হবে।

এছাড়া প্রতিটি স্টক ব্রোকার এক্সচেঞ্জের সঙ্গে সমন্বয়ে যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে শুধু একটি সমন্বিত গ্রাহক হিসাব খুলবে। উপরোক্ত অ্যাকাউন্ট শুধু গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ জমা এবং অর্থ প্রদানে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের এলাকা বা এলাকা ব্যতীত এবং বাংলাদেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন বা বিভাগীয় শহরে স্টক ব্রোকার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে একাধিক সমন্বিত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। যদি স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন হয়। তবে এর অফিস বা ডিজিটাল বুথ যে এলাকায় থাকবে সেখানে খুলতে হবে এবং কমিশনের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে।

আইনে আরও বলা রয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেল বা সিস্টেমে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত সব রসিদ এবং সবার ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট প্রাপকের চেক, পেমেন্ট অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট বা অন্য কোনো পেমেন্ট পদ্ধতিতে লেনদেন হবে।

সবার ক্ষেত্রে এক দিনে নগদ দেয়া বা একবার লেনদেনে বা একাধিকবার লেনদেনে গ্রাহককে সর্বোচ্চ আট লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকার রশিদ দেয়া যাবে। সমন্বিত গ্রাহক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্জিত সুদ আয় সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার বা স্টক ডিলারের আয় হিসাবে গণ্য করা হবে না। নেট ব্যাংক চার্জ সমন্বয় করার পরে এই জাতীয় সুদের আয়, যদি থাকে তবে আনুপাতিকভাবে গ্রাহকদের কাছে বিতরণ করা হবে। এরপরও যদি কোনো সুদ আয় বাকি থাকে তবে সুদের আয় যা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় স্থানান্তর করা হবে; যা প্রতিটি আর্থিক হিসাব শেষে ৩০ দিনের মধ্যে এক্সচেঞ্জের তহবিলে জমা দিতে হবে। পূর্বোক্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিলে সুদের আয় স্থানান্তর করতে দেরির ক্ষেত্রে প্রতি মাসে অতিরিক্ত দুই শতাংশ সুদ চার্জ করা হবে, যা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিলে স্থানান্তর করতে হবে।