প্রতিনিধি, মীরসরাই (চট্টগ্রাম): মীরসরাইয়ে বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে সেই সবজি চট্টগ্রাম ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। মীরসরাইয়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাটা, কলমি শাক, লাউ, টমেটো, শিম, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, তিত করলা, বরবটি লাউসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষাবাদ হয়ে থাকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ভালো হওয়ায় এ উপজেলার সবজি একেবারে সতেজ থাকতেই অন্যত্র পৌঁছে যায় কম সময়ে।
চলতি মৌসুমে অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এখানে চাষাবাদ হবে পুঁইশাক, লালশাক, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাটা, কলমিশাক, লাউ, টমেটো, সিম, বেগুন, তিত করলা, ঢ্যাঁড়স, বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সবজির চাষ শুরু হতে দেখা গেছে। এই ছাড়া বীজতলা তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, এই বছর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ফসলি মাঠে ১ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ৯০০ হেক্টর জামিতে সবজি চাষ সম্পন্ন হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ার আশায় পুরোদমে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার? ওয়াহেদপুর, দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া, মীরসরাই সদর ইউনিয়নসহ সব কয়েকটি ইউনিয়নের এলাকায় চাষিদের কৃষি কাজে ব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ গাছের চারা রোপণ করছেন, কেউ বা চারা রোপণের জন্য চাষের জমি তৈরি করছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় এই বছর কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম সবজি চাষ করেছে। বাজারে ভালো দাম থাকলে সে ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
খৈয়াছড়া গ্রামের মরিচ চাষি জরিনা আক্তার বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছি। পরিবেশ ঠিক থাকলে ফলাফল ভালো হবে আশা করি।
ধুম ইউনিয়নের কৃষক নুর আলম জানান, বন্যার কারণে ধান নষ্ট হয়ে হওয়ায় আগাম পুঁইশাক, লালশাক, মুলার শাকসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করেছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শাক বিক্রি করা প্রায় শেষ করছি। বাকি জমিগুলোতে শীতকালীন সবজি গুলো লাগানো শেষ হয়েছে। আশা করছি, আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভবান হতে পারব।




