পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসির উদ্যোক্তা পরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসেন শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসেন ২২ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ শেয়ার তার পুত্র মাহামুদ আল নাহিয়ানকে এবং তার কন্যা নওশীন ইশরাত প্রমিকে ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ শেয়ার ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে উপহার হিসেবে এই শেয়ার দেবেন।
এদিকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। আর আগের বছরের একই সমেয়র তুলনায় আলোচিত এই সময়ে কোম্পানিটিন শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৫ পয়সা। অর্থাৎ চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস ৩০ পয়সা বেড়েছে। অন্যদিকে চলতি হিসাববছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৪) ইপিএস হয়েছে ৩৭ পয়সা (লোকসান), আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা (লোকসান)। অর্থাৎ প্রথমার্ধের হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৫৩ পয়সা। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ১৩ টাকা ৬২ পয়সা ছিল।
২০২৪ সালের ৩০ জুন হিসাববছরে কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৪ পয়সা (লোকসান) এবং ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৪৯ পয়সা। আর আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ২১ টাকা ৭০ পয়সা। এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ জুন হিসাববছরে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। আলোচিত ওই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৭৫ পয়সা (লোকসান) এবং ৩০ জুন ২০২৩ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৬২ পয়সা। আর আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৩৮ টাকা ৩২ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২২ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৫০ পয়সা।
আর আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে ৯ টাকা ৭২ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন ২০২১ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২১ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ১৬ পয়সা।
ডিএসইতে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ৪০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২৮ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ২৮ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪১৮টি শেয়ার মোট ৫৯৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ২৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২৯ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি ২০১৯ সালে পুঁঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন করছে। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩২ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২৫ দশমিক ২১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




