আধুনিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিপ্লব, আন্দোলন, অভ্যুত্থান ও গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়গুলো রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে সমার্থক দৃষ্টিতে বা রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় এগুলোকে এক করে ফেলা হয়। তবে প্রতিটির ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান ও ‘বিপ্লব’ পরস্পর সম্পর্কিত হলেও এ ধারণাগুলোর বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র আলাদা। এগুলোর উদ্দেশ্য ও আকাক্সক্ষা ভিন্ন, নেতৃত্বের ধরন ও চরিত্র আলাদা। এ কারণে আন্দোলন-পরবর্তী প্রত্যাশা ও আশা-আকাক্সক্ষাও হয় ভিন্ন। ফলে দেখা যায়, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশাটা অনেক সময় পূরণ হয় না।
তাই প্রথমে আসা যাক উল্লিখিত রাজনৈতিক কার্যকলাপ সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে, যা কর্মসূচির আকাক্সক্ষার সৃষ্টি করে তা হলো অভ্যুদয়। অভ্যুদয় শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সৃষ্টি, সূচনা, জš§, আরম্ভ ও প্রারম্ভ। তাই কোনো বিপ্লব, আন্দোলন, ক্যু ও অভ্যুত্থানের সৃষ্টি প্রাথমিক পর্যায়টা হলো অভ্যুদয়।
অন্যদিকে বিপ্লব হলো একটা গুণগত পরিবর্তন, যার ফলে আগের অবস্থা আমূল পরিবর্তিত হয়ে যায়। বিপ্লব ও বিদ্রোহ আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও দুটো আলাদা।
যেমন কোনো এক নায়কের বিরুদ্ধে কিছু বা অনেক সেনা বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে আবার একনায়কতন্ত্র বজায় রাখল। এতে কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থার একনায়কতন্ত্রী ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হলো না। শুধু ক্ষমতার হস্তান্তর হলো। আবার ভিয়েতনামে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠা হলো। অর্থাৎ বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হলো।
ক্যু বা পাল্টা অভ্যুত্থান হলো একটি ছোট গোষ্ঠীর দ্বারা বিদ্যমান সরকারকে আকস্মিক বা সহিংস উপায়ে উৎখাত করা। বিপ্লব বলতে সাধারণত বোঝানো হয় বেশিরভাগ মানুষের স্বার্থে অংশগ্রহণে ক্ষমতা দখল। আর ক্যু বা প্রতিবিপ্লব অর্থ হলো, অল্প কিছু মানুষের স্বার্থে, তাদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করা।
ক্যুর মাধ্যমে যারা ক্ষমতা দখল করে, তারা ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বেশিরভাগ জনগণের স্বার্থরক্ষা করে না। আধুনিক ইতিহাসের প্রাচীনতম পালটা অভ্যুত্থান হয়েছে ১৭৯৯ সালের ৯ নভেম্বর। ওই সময় নেপোলিয়ন ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এ ছাড়া লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ক্যু একটি নিয়মিত ঘটনা ছিল। ১৯ ও ২০ শতকে আফ্রিকার দেশগুলোয় ব্যাপক মাত্রায় ক্যু’র ঘটনা ঘটে।
তবে বিপ্লব হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে একটি মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন, যা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে ঘটে, যখন জনগণ চলমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে জেগে ওঠে। এরিস্টটল দুই ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লবের বর্ণনা দিয়েছেন-এক. সংবিধান থেকে অন্য সংবিধানে পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন; দুই. একটি বিরাজমান সংবিধানের সংস্কার। বিপ্লব মানব ইতিহাসজুড়ে ঘটেছে এবং বিপ্লবের পদ্ধতি, স্থায়িত্ব ও প্রেরণাদায়ী মতাদর্শ খুব বিস্তৃত একটা বিষয়। কারণ বিপ্লবের ফলে সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়। অধিকাংশ সময় ‘বিপ্লব’ শব্দটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় একটি পরিবর্তন সূচিত করা বোঝায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডেভিসের মতে, বিপ্লব হচ্ছে হিংসার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত শাসক শ্রেণিকে হিংসার মাধ্যমে উৎখাত করে জনসাধারণের অধিকাংশের সমর্থনপুষ্ট কোনো শ্রেণির রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। অন্য অর্থে ক্রেন ব্রিনটনের মতে, প্রতিষ্ঠিত সরকারকে বিধিবহির্ভূতভাবে সশস্ত্র উপায়ে পরিবর্তন করাই হলো বিপ্লব, যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে। কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস সামাজিক সম্পর্কগুলোর গুণগত পরিবর্তনকেই বিপ্লব বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাল মার্কস ও এঙ্গেলস দেখান যে, ইতিহাস মূলগতভাবে গতিময় এবং এই গতিময়তার উৎস হলো সমাজের বিভিন্ন সম্পর্কের, বিশেষত অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমাগত পরিবর্তন।
অভ্যুত্থান শব্দটি এসেছে ফরাসী শব্দ ক্যুপ (পড়ঁঢ়) থেকে। তবে অভ্যুত্থান শব্দের অন্য অর্থ, কাউকে সম্মান দেখানোর জন্য আসন থেকে উঠে দাঁড়ানো। তবে রাজনৈতিক সাহিত্যে বলা হয়, সাধারণত আকস্মিক ও অবৈধভাবে নির্বাচিত সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে দলগত কোনো জনগোষ্ঠীর অবস্থান ব্যক্ত করে ক্ষমতাচ্যুত করা কিংবা জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করাকে অভ্যুত্থান বলে। তাই অভুত্থান এবং গণ-অভুত্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থান শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত-‘গণ’ অর্থাৎ জনগণ এবং অভ্যুত্থান অর্থাৎ বিদ্রোহ বা বিপ্লব। এটির আক্ষরিক অর্থ হলো জনগণের দ্বারা সংঘটিত অভ্যুত্থান। বুৎপত্তিগতভাবে ‘গণ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘গণ’ থেকে, যার অর্থ হলো জনসমষ্টি বা জনগণ।
অভ্যুত্থানের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে হঠাৎ ও অবৈধভাবে নির্বাচিত সরকারের রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে দলগতভাবে কোনো গোষ্ঠীর অবস্থান ব্যক্ত করে ক্ষমতাচ্যুত করা, কিংবা জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা। সাধারণত ছোট্ট একটি দলের সদস্য হিসেবে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান কাজ পরিচালনা করে থাকে। এরপর সরকার পরিবর্তনে অন্য কোনো পরিচালনা কমিটি, বেসামরিক অথবা সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে।
গণ-অভ্যুত্থান হলো বিপ্লবাত্মক কর্মকাণ্ড, এই কর্মকাণ্ডে বৃহৎ সংখ্যক জনগোষ্ঠী অংশ নেয়। কিন্তু অভ্যুত্থানে স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি অংশ নিয়ে থাকে। এমনকি একজন ব্যক্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশের সেনাবাহিনী প্রধানের মাধ্যমেও অভ্যুত্থান কার্য পরিচালনা হতে পারে। এছাড়া অন্য দেশের মাধ্যমেও অভ্যুত্থান হতে পারে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ১৯৫৩ সালের ইরানের অভ্যুত্থান। জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে এডলফ হিটলার বিয়ার হলো পুটস ভবন অবরোধ করে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন।
অভ্যুত্থান শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে আকস্মিকভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অবরোধ করা। অনানুষ্ঠানিকভাবে অভ্যুত্থান বা ক্যু শব্দটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ক্ষেত্রে প্ররয়াাগ করা হয়ে থাকে। দায়িত্বভার গ্রহণ, বিজয় কিংবা স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্যু শব্দ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিদ্রোহ হলো একটি সংগঠিত বা অগণতান্ত্রিক আন্দোলন, যেখানে সাধারণত কোনো বিশেষ ক্ষমতাশালী শাসন, আইন, বা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে উত্থান ঘটে। এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা, সরকারের, বা শক্তিশালী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হতে পারে। বিদ্রোহে সাধারণত সহিংসতা বা রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি থাকে এবং এটি মূলত শাসকের বিরুদ্ধে বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য সংঘটিত হয়, যেমন ১৭৭৫ সালের আমেরিকার ঔপনিবেশিক বিদ্রোহ।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান হলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশের) জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, যা ১৯৬৯ সালের সর্বাধিক গুরত্বপূর্ণ একটি আন্দোলন। ইতিহাসে এটি ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান নামে পরিচিত। এই অভ্যুত্থান সংগঠিত হওয়ার পেছনে কারণ ছিল নিপীড়নমূলক সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাবদ্ধ করার প্রতিবাদে একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনটি গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এটা সংগঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে। পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল।
আফ্রিকা মহাদেশের রাষ্ট্রগুলোয় অভ্যুত্থান একটি সাধারণ ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫২ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট ৩৩টি দেশে ৮৫ বার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। পশ্চিম আফ্রিকায় সর্বাধিক ৪২ বার এ ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ অভ্যুত্থানই নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ঘটছে। ২৭ বার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে এবং মাত্র পাঁচবার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী এ নিয়মে পরিচিতি লাভ করে। সাধারণত সামরিক বাহিনী সরাসরি ক্ষমতায় না গিয়ে তাদের মদতপুষ্ট বেসামরিক ব্যক্তিকে দেশ পরিচালনায় আহ্বান জানায়। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্রেঞ্চ ফোর্থ রিপাবলিকের শাসনব্যবস্থা ধসে পড়ে, মৌরিতানিয়ায় রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ৩ আগস্ট সরকার পরিবর্তিত হয়।
প্রতিরোধ হলো কোনো নির্দিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে বিরোধিতা করা বা প্রতিরোধের কৌশল অবলম্বন করা। এটি শাসনব্যবস্থা, নিপীড়ন, দমন বা অন্য কোনো বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে হতে পারে। প্রতিরোধ সাধারণত এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়াময় কর্মসূচি, যা শাসক বা অন্য কোনো শক্তির দ্বারা চাপ সৃষ্টি বা জবরদস্তি রোধ করার চেষ্টা করে থাকে। প্রতিরোধ সহিংস বা অসহিংস উভয়ভাবেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই কাজটি কোনো গোষ্ঠী বা এটি সমগ্র সমাজ বা জনগণের অংশগ্রহণে হতে পারে। যেমন ফ্রান্সে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ চলাকালে নাজি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন সংগঠিত হয়।
বিদ্রোহ, সংগ্রাম, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মধ্যে পার্থক্য হলো বিদ্রোহ সাধারণত সহিংস ও প্রতিষ্ঠিত শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সংগ্রাম হলো দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা বা আন্দোলন, যা লক্ষ্য অর্জনের জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ নেয়। যেমন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। প্রতিবাদ হলো বিশেষ কোনো বিষয়ে অসন্তোষ বা বিরোধিতা প্রকাশের প্রক্রিয়া, যা সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত হয়। প্রতিবাদ হলো একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া বা বিরোধিতা, যা শাসক বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় এবং এটি অস্বীকৃতি বা প্রতিবাদকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ১৯৭১ সালে সংগঠিত হয়। তবে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে যে যুদ্ধটি সংগঠিত হয়েছিল, তার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে এসে দেখা যায়, সংগ্রামের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণ হয়নি, উপরন্তু বারবার শাসনযন্ত্রের স্টিয়ারিংটা চলে গেছে ফ্যাসিবাদীদের হাতে। তাই উত্তর উত্তর বেড়েছে সমাজে বৈষম্য। এই বৈষম্য ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সব ধরনের কার্যকলাপে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছে। একনায়ক হাসিনা তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে দমন-নিপীড়ন চালায় নির্বিবাদে। তাই ছাত্র-জনতা একত্র হয়ে বৈষম্যনিরোধ আন্দোলনের প্ল্যাটফরম গড়ে তোলে। ফলে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ব্যাপক জনবিস্ফোরণ দেখা দেয়। আপামর জনতার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর মসনদ দখলে রাখা কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা। অবসান ঘটে দেড় যুগ ধরে চলা স্বৈরশাসনের। ঐতিহাসিক এ ঘটনাকে অনেকে ছাত্র-জনতার ‘বিপ্লব’ মনে করলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে।
এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনটি শুধু একটি নির্বাচনের জন্য হয়নি, এই অভ্যুত্থানটি হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার তথা বৈষমনিরোধের জন্য। এখন জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণের অপেক্ষায় আছে। আপামর জনসাধারণ আশা করছে, সকল প্রকার বৈষম্য নিরোধ হবে। আর তাহলেই হলেই ৫ আগস্টের আন্দোলনটি একটি সঠিক গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।
লেখক: ফ্রিল্যান্স লেখক
৩২৫ কাদিরগঞ্জ দরিখোরবোনা, রাজশাহী




