ডেনিম এক্সপো’র সেমিনার

পোশাক খাতে উন্নয়ন ও নতুনত্বের মূল ভিত্তি স্থিতিশীলতা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী শুল্ক অস্থিরতা এবং বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই স্থিতিশীলতাকে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও নতুনত্বের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখছেন পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ডেনিম এক্সপো আয়োজিত সেমিনারে গতকাল বক্তারা এসব কথা বলেন।

পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ এবং ‘জেনারেলাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সের (জিএসপি)’ আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছে। তবে ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর এই সুবিধা অব্যাহত চালু থাকবে না। যদি বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ২০২৯ সাল থেকে ইউরোপে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ দশমিক ১৫ শতাংশ ইউরোপের বাজারে যায়।

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা আমাদের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে ভারত ২৪ দশমিক চার শতাংশ, পাকিস্তান ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং চীন চার দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই প্রবৃদ্ধি এমন এক সময়ে অর্জিত হয়েছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বব্যাপী উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এর অর্থ হলো, একটি অস্থির আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবর্তনশীল শুল্ক নীতির মধ্যেও বাংলাদেশ তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমার বিশ্বাস, বাণিজ্য আলোচনার টেবিলে আমাদের প্রধান শক্তি হবে আমাদের শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার অগ্রগতি। কারণ আমাদের যেমন বাণিজ্য অংশীদারদের প্রয়োজন, তেমনি তাদের ভোক্তাদেরও আমাদের তৈরি পোশাকের প্রয়োজন।’

মোস্তাফিজ উদ্দিন জানান, গত ডেনিম এক্সপোতে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের এক্সপোর মূল আলোচনা দক্ষতা, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির ওপর করা হয়েছে। এবারের আয়োজনের মূল বার্তা হলো-পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হওয়া, যার মাধ্যমে ২০২৯ এবং পরবর্তী সময়ের জন্য শিল্পকে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

আইসিসিবিতে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ডেনিম এক্সপোর ১৮তম আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে-ভারত, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক, স্পেন, ইতালি, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এই দুই দিনের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের আলোচনা ‘ওয়াশিং প্রক্রিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের অগ্রগতি’ নিয়ে। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ডেনিম পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।