কৃষ্ণচূড়ার নান্দনিক সাজে বান্দরবানের পাহাড়

হ্লাসিং থোয়াই মারমা, বান্দরবান : কেউ বসেছে রক্তরাঙা গাছের নিচে নিজেকে কৃষ্ণচূড়ার রংয়ে মেশাতে। কেউ বসেছে কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়ে প্রিয় মানুষটিকে দেবে বলে। আবার কেউবা অবাকপানে তাকিয়ে থাকে কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে। তীব্র তাপপ্রবাহে পাহাড়ের জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই একটি কৃষ্ণচূড়ার গাছের ছায়ায় বসে পথিক একমুঠো সুখ অনুভব করে। গাছে গাছে রক্তিম আভা নিয়ে জেগে থাকা কৃষ্ণচূড়া দৃষ্টি কাড়ছে সেসব ফুলপ্রেমী মানুষদের, যারা শত ব্যস্ততার মধ্যেও ফুলের জন্য অপেক্ষা করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের দুপাশজুড়ে কোথাও না কোথাও দেখা মিলছে কৃষ্ণচূড়ার। রাজার মাঠ, পার্বত্য জেলা পরিষদ, মেঘলা পর্যটন কেন্দ , নীলাচল সড়ক, হলুদিয়া ছাড়াও চিম্বুক সড়কে দেখা মিলছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। সড়কের দুপাশজুড়ে সগর্বে জেগে রয়েছে। ঘুরতে আসা স্থানীয় পর্যটকরাও সৌন্দর্য দেখে ছবি তুলছেন। ফুল উৎসবের ঋতু গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার লাল রংয়ের যে উম্মাদনা, তা এতই আবেদনময়ী যে চোখ ফেরানো অসম্ভব।

বান্দরবানে বিভিন্ন জনপথ ও বসতবাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে পড়েছে রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়ার জৌলুস। থোকায় থোকায় ফুল ফুটেছে গাছে। সবুজের বুকে এক খণ্ড লালের রাজত্ব। দূর থেকে দেখে মনে হয় ময়ূর প্রকৃতির মাঝে রাঙা পেখম মেলে ধরেছে। আর এসব কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ফুলপ্রিয় পথিক। কেউ তুলছেন ছবি কেউবা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা ফুলপ্রেমী মানুষ, তাদের কাছে কৃষ্ণচূড়া একটি জনপ্রিয় ফুল। তাছাড়া সড়কের দু’পাশ জুড়ে এই কৃষ্ণ ফুলের সৌন্দর্য দেখতে পেয়ে আনন্দে যেন মাতোয়ারা। নানা বৈশিষ্ট্যে দৃষ্টিনন্দন এ ফুলের কদর রয়েছে সব মহলেই। বিশেষ করে বাংলা কাব্য, সাহিত্য, সংগীত ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। ফুলটির রং এত তীব্র যে অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ে। হঠাৎ দূর থেকে দেখলে মনে হবে, কৃষ্ণচূড়া গাছে যেন রঙের আগুন লেগেছে।

কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি সিসালপিনিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। কৃষ্ণচূড়া লাল, হলুদ ও সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে লাল ও হলুদ রঙের ফুল দেখা গেলেও সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়া দেখাই যায় না।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নিনিসে মার্মা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেতেই চোখে পড়ে শহরে রাজার মাঠে কৃষ্ণচূড়া গাছটি। বিশ্রামের ছলে খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে তার সৌন্দর্য অনুভব করি। লাল সবুজের মিলনে রক্তিম আভা ছড়ানো কৃষ্ণচূড়া ফুল যেন নিজেদের জীবনে ছড়িয়ে দেয় মুগ্ধতা।

ঘুরতে আসা পর্যটক রাকিবসহ বেশ কয়েকজন জানান, যখন কৃষ্ণচূড়া ফুটে তখন গাছে গাছে লাল-সবুজ রঙে যেন ভরে ওঠে। আর এ সময়টা খুবই ভালো লাগে। সেটা এক অন্যরকম ভালোবাসা। সড়কের দুপাশজুড়ে যে ফুলে সৌন্দর্যের সমারোহ তা দেখে খুবই মুগ্ধ।

বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘কৃষ্ণচূড়া মূলত তিন জাতের হয়। বেশির ভাগ লোকের নাম কৃষ্ণচূড়া হিসেবে জানলেও এর অপর নাম গুলমোহন। কৃষ্ণচূড়া ফুল থোকায় থোকায় গাছের ডালে পর্যায়ক্রমে ফুল ফুটতে থাকে। সৌন্দর্যবর্ধনে পরিবেশবান্ধব কৃষ্ণচূড়া গাছের পাশাপাশি অন্যান্য গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।