শামসুল আলম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উত্তরের ঐতিহ্যবাহী জেলা ঠাকুরগাঁও। অতিতের এই ঐতিহ্যবাহী জেলাটি হারিয়ে ফেলেছে তাঁর পুরোনো সেই ঐতিহ্য। ব্রিট্রিশ আমলে একটু উন্নয়নের ঝলক লাগলেও বর্তমানে জেলাটির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এখনো অনেক কিছুর অভাব রয়েছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য অন্যতম মৌলিক প্রধান চাহিদা হল চিকিৎসাসেবা। এই চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নের যুগে এই জেলায় প্রয়োজন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যা এই জেলার মানষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে এবং আশেপাশের জেলার মানুষও উপকৃত হবে।
বর্তমানে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ইতিমধ্যেমেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রুপান্তর করা ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৫ লক্ষ্য মানুষের জনদাবীতে পরিণত হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে রুপান্তর করার জনদাবী নিয়ে ফুসে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। ইতি মধ্যে প্রতিনিয়ত ঠাকুরগাঁও সর্বস্তরের মানুষ মানব বন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নতি হলেও সে অনুপাতে জনবল দেওয়া হয়নি এখোনো। জানা গেছে, এখানে প্রথম শ্রেনির পদ খালি রয়েছে ১৭টি দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীরও মোট পদ খালি রয়েছে ৫৬টি। এতে মানসম্মত চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্স। রংপুর বিভাগের মধ্যে এইচএসএস স্কোরিংয়ে প্রতিবছরেই বারবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে হাসপাতালটি। হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজে রুপান্তরের সবযোগ্যতায় আছে।
তবে শিল্পক্ষেত্রে উন্নত জেলার তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এগিয়েছে। সুনাম কুড়িয়েছে জেলার আধুনিক সদর হসপাতাল। যার প্রমাণ মেলে ঠাকুরগাঁওসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলার চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দেখে। ১৯৮৭ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে এটি ১৮ শয্যার শিশু শয্যাসহ ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৮ সালে ১০০ শয্যার ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নতুন ১৫০ শয্যার সাত তলা ভবন উদ্বোধন করে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং ১৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডটিকে উন্নিত করা হয় ৪৫ শয্যায়। কিন্তু সে অনুপাতে এখনও জনবল এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্সরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে যে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ৮৫০ রোগী ভর্তি থাকে। এর মধ্যে শুধু শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি থাকে ২০০/২৫০ জন শিশু রোগী। দিনে ও রাতে ঠান্ডা এমন আবহাওয়ায় বেড়েছে ডাইরিয়া শিশু রোগীর সংখ্যা। শয্যা সংকটে পড়ে অভিভাবকরা অধিকাংশ শিশু রোগী নিয়ে অবস্থান করছেন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দা কিংবা মেঝেতে। এই সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ভালো থাকায় জেলার পাঁচ উপজেলাসহ আশপাশের জেলা পঞ্চগড়, নিলফামারী ও দিনাজপুরের কিছু অংশের রোগীরা সেবা নিতে আসায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনেক সময় কাঙ্খিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
পঞ্চগড়, নিলফামারী ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, রংপুর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তুলনায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যায় জেনারেল হাসপাতাল কাছে হওয়ায় আমাদের এখানে ছুটে আসা। চিকিৎসার মান ভালো হওয়ায় শয্যা সংকটে পড়েও মেঝে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই। হাসপাতালটিতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি লোকবল বাড়ানোও জরুরি হয়ে পড়েছে। তানাহলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন রোগীরা। হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী, কার্ডিওলোজি ও শিশু সেবার মান ভালো ও জনবান্ধব হওয়ায় রোগীরা এই হাসপাতালে ছুটে আসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আশা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাউলার হাট এলাকার এক শিশু রোগীর মাতা মোছাঃ বেবি আক্তার জানান, আমাদের এই হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা চিকিৎসার ব্যাপারে রোগীদের আন্তাররিক ভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। তাই হাসপাতালটিতে সবসময় ভীড় থাকে। হাসপাতালে খাওয়া দাওয়া পরিচ্ছন্নতার দিকটাও বর্তমানে ভালো। এই হাসপাতালটিতে জনবল নিয়োগের পাশাপাশি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুপান্তর হলে ভালো হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর গ্রাসের বাসিন্দা রমজান জানান, এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ভালো, ডাক্তার ও নার্সরা চিকিৎসার ব্যাপারে রোগীদের সাথে বন্ধু সুলভ আচরন কিছুদিন আগে এই হাসপাতালে আমি আমার স্ত্রী ভর্র্তি করি। জরুরি বিভাগের ডাক্তার রোগীর অবস্থা বেগতীগ রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারা জানান এই রোগীর রোগ পরীক্ষা নীরিক্ষা করার মতো মেশিন আমাদের হাসপাতালে নেই। পরে রংপুর নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই মারা যায় আমার স্ত্রী। তাই আমি মনে করি আশে পাশের কয়েকটি জেলার কেন্দ্র ও কম দুরত্ব ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল এই হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রপান্তর করলে সবচেয়ে ভালো হত। তাহলে আমাদেও স্বজনদের চিকিৎসায় অভাবে মারা যেতে হত না। অনেক সময় দূর্ঘনায় আহত অথবা বিবিন্ন জটিল রোগীদের নিয়ে রংপর বা দিনাজপুর নিয়ে যেতে যেতেই মারা যায়। আবার গরীব মানুষ জটিল রোগীদের অর্থ অভাবে দিনাজপুর বা রংপুরে নিয়ে যেতে পারে না ফলে অকালেই মৃত্যমুখে পতিত হয়। যা বড় হৃদয় বিদারক। তাই হাসপাতালটি দ্রুত মেডিকেল কলেজে রুপান্তরিত হলে এই জেলাসহ আশেপাশের লক্ষ্য লক্ষ গরীব মানুষ চিকিৎসাসেবার সুবিধা হত। তাই আমি অনুরোধ করি গরীব ও অসহায় মানষের কথাভেবে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে জনবল নিয়োগ ও মেডিকেল কলেজে রুপান্তর হলে এই জেলার সহ আশেপাশের দুএক জেলার ছেলেমেয়েদের ডাক্তার স্বপ্নপুরণ হত।
হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ছেলের চিকিৎসা নিতে আসা সাবিনা আকতার জানান, এখানকার চিকিৎসকেরা চিকিৎসার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। কিন্তু চিকিৎসকের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে আরো শয্যা বাড়ানো দরকার। এখানে এত রোগীর চাপ থাকে যে বারান্দা বা মেঝেতে বসে চিকিৎসানিতে হয়।
পঞ্চগড়, নিলফামারী আটোয়ারী ও দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ, বীরগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, রংপুর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তুলনায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল কাছে হওয়ায় আমাদের এখানে ছুটে আসা। চিকিৎসার মান ভালো হওয়ায় শয্যা সংকটে পড়েও মেঝে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই। হাসপাতালটিতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি লোকবল বাড়ানোও জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন রোগীরা। হাসপাতালে মেডিসিন ,সার্জারী,গাইনী,কার্ডিওলোজি ও শিশু সেবার মান ভালো ও জনবান্ধব হওয়ায় রোগীরা এই হাসপাতালে ছুটে আসেন।
প্রসব-পরবর্তী সেবা, সিজারিয়ান অপারেশন, মাইনর সার্জারি, ব্রেস্ট ফিডিংসহ অন্যান্য সেবা দিয়ে রংপুর বিভাগের বারবার ৮টি হাসপাতালের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের হেলথ সিস্টেমস স্ট্রেনডিং (এইচএসএস) স্কোরের পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়াতে এইচএসএস স্কোরিংয়ে আটবার প্রথম স্থান অর্জন করে। সেবা নিতে আসা রোগী শারমিন আক্তার জানান, আগের তুলনায় হাসপাতালটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সদর উপজেলার আখানগর এলাকার বাসিন্দা আল আমিন হোসেন বলেন, হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল হাসপাতালটি বর্তমানে ভালভাবে তদারকি করছেন। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকলেও তিনি ও অন্যান্য চিকিৎসকগণ যেভাবে সেবা দিয়ে চলেছেন তা প্রশংসনীয়।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক ডা.মোহাঃ ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসা দল নিয়ে কাজ করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই জেনারেল হাসপাতাল এইচএসএস স্কোরিংয়ে বারবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এখানে প্রতিদিনই অভিজ্ঞ ডাক্তারা রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতি শিফটে তিনজন করে নার্স প্রতিনিয়ত অসুস্থ রোগীদের’ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আবার কোন কোন ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এতে অতিরিক্ত রোগীদের বারান্দা বা মেঝেতে করেই চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে আমাদের। একই সাথে হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজে রুপান্তর করার সব যোগ্যতা আছে। হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজে রুপান্তর হলে এই এলাকার মানুষেরা উপকৃত হবে এবং ঠাকুরগাঁও উন্নত জেলায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post