শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | ২৮ জিলকদ ১৪৪৭
  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শেয়ার বিজ
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
➔ ই-পেপার
No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
No Result
View All Result
শেয়ার বিজ
No Result
View All Result

বৈশ্বিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ গুরুত্বপূর্ণ

Share Biz News Share Biz News
রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫.১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বিভাগ - পত্রিকা, সম্পাদকীয় ➔ প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
A A
272
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Linkedin

রেজাউল করিম খোকন : খেলনা রপ্তানি আগামী পাঁচ বছরে আট গুণের বেশি বাড়তে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশ্বের ৮৮টি দেশে খেলনা রপ্তানি হয়েছে সাড়ে সাত কোটি ডলারের বেশি। ২০৩০ সালে এই রপ্তানির আকার বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। ফলে বৈশ্বিক খেলনা রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৮তম।২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৭ কোটি ডলারের বেশি প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে এই খাতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হয়েছে ১২০ কোটি ডলার। প্লাস্টিক শিল্পের দেশীয় বাজারের আকার এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা। খাতটি সরকারকে বছরে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব দিয়েছে। দেশে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার, যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই)। এর মধ্যে খেলনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৫০। বাংলাদেশের খেলনাশিল্পে সম্ভাবনা থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মান নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, দুর্বল অবকাঠামো ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের ঘাটতি আছে। এর সঙ্গে খেলনাশিল্পে ছাঁচ ও নকশা উন্নয়নের অভাব আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশকে কঠিন করছে। এর আগে রপ্তানিশিল্পে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্বের খেলনা বাজারের আকার দাঁড়াবে ১৫০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বিশ্বের খেলনা বাজারের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে চীন। তবে মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তারা ধীরে ধীরে নিম্নমানের খেলনা উৎপাদন থেকে সরে আসছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ। বর্তমানে দেশে এই খাতে বিনিয়োগ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিনিয়োগ দ্বিগুণ হতে পারে। খেলনা রপ্তানির জন্য আমাদের আলাদা বাজার চিহ্নিত করতে হবে। দেশে তৈরি কিছু পণ্য কম মানের হলেও বিক্রি করা যায়। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের মান সর্বোচ্চ রাখতে হবে। খেলনা রপ্তানিতে ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করতে হবে। ছাঁচ ও নকশার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে হবে। স্থানীয় ছাঁচ যেভাবে তৈরি হচ্ছে, তা মানসম্পন্ন করছে না। স্বত্ব ও মেধাস্বত্বের বিষয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বেশি দেখা যায়। স্বত্ব ও ট্রেডমার্ক ব্যবস্থা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তার বলয় তৈরি করবে। এর ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক নতুন বাজারে দেশের প্রতিষ্ঠান সুযোগ পাবে। সরকার কিছু নীতিগত সহায়তা দেবে। তবে মান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন শিল্পোদ্যোক্তাদের নিজেদের করতে হবে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে। সরকার জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করছে। রপ্তানিমুখী খেলনাশিল্পকে এসব বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হবে। এই শিল্পে রপ্তানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক কমানোর প্রয়োজন। এই একটি সম্ভাবনাময় খেলনা শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ এবং উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের রপ্তানি বাজার বিস্তৃত করা যায় অনেকটাই। এ রকম আরও অনেক অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে এত দিন ধরে অবহেলিত থাকা শিল্প ও কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দেয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই এ মুহূর্তে।

সরকারের নানা ধরনের উদ্যোগেও রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা যাচ্ছে না। একক পণ্য, একক বাজার বা একক অঞ্চল নির্ভরতার কারণে দেশের পণ্য রপ্তানিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এভাবে একক পণ্য ও একক বাজারের ওপর নির্ভরতার কারণে হঠাৎ কোনো কারণে রপ্তানিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী,  ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৩ হাজার ২৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় ৫০, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯, যুক্তরাজ্যে ১১ শতাংশ তৈরি পোশাক যায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যের ওপর পূর্বের ১৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২৬ শতাংশ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এক নির্বাহী আদেশে প্রথমের মধ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ৫০, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯, যুক্তরাজ্যে ১১ শতাংশ তৈরি পোশাক যায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যের ওপর পূর্বের ১৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২৬ শতাংশ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এক নির্বাহী আদেশে প্রথমে শুল্ক ৩৭ শতাংশ ঘোষণা করেছিল। পরে সেটি স্থগিত করে আগের শুল্কের ওপর আরও ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করে। তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় পণ্যের মধ্যে বড় ধরনের তফাত রয়েছে। অথচ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হওয়ার জন্য পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি। কারণ এক পণ্যের ওপর নির্ভর করে যেসব দেশের এলডিসি উত্তরণ হয়েছে, তারাই পরে ঝুঁকিতে পড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস জুলাই-মার্চে মোট ৩ হাজার ৭১৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, চামড়াবিহীন জুতা, প্লাস্টিক, প্রকৌশল পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য বাড়ানোর জন্য বিদেশে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। সেজন্য নীতি ঠিক করতে হবে। করপোরেট ট্যাক্স হার কমাতে হবে। অন্যান্য দেশ কীভাবে রপ্তানি বাড়িয়েছে সে নীতি অনুসরণ করতে হবে। দেশের রপ্তানি একটি পণ্যের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা উচিত। এটি এখন সময়ের দাবি। শুধু কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উদ্ভাবনে যেতে হবে, নতুন বাজার খুঁজতে হবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য আমাদের দুর্নীতি দূর করতে হবে এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তৈরি পোশাক খাতের ওপর থেকে অতিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা। রপ্তানি খাতের জন্য সরকারকে পাঁচ-সাত বছর মেয়াদি একটি নীতি প্রণয়ন করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সবসময় রাজস্ব আহরণের দৃষ্টিকোণ থেকে রপ্তানি খাতকে দেখা হচ্ছে। এতে স্বল্প মেয়াদে সরকার রাজস্ব পেলেও দীর্ঘ মেয়াদে রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে। শুধু গার্মেন্ট খাতকে প্রাধান্য না দিয়ে পাশাপাশি অন্য খাতেও নজর দেয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গতি বাড়াতে আঞ্চলিক বাণিজ্য বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছে প্রায় সময়ই। অনেক বাধাবিপত্তির কারণে মাঝেমধ্যে আমাদের রপ্তানি-বাণিজ্য হোঁচট খাচ্ছে। তেমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে উপকৃত হবে বাংলাদেশ। রপ্তানি বাণিজ্যের হাত ধরেই এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটতে পারে। রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে হয়তো নানা প্রতিকূলতা আছে, যা অতিক্রম করে সমৃদ্ধির ধারা বজায় রাখাটা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রত্যাশা, সব প্রতিকূলতা, বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি আয় বাড়াতে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের মধ্যে রপ্তানি-বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পৃথিবীর কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা রয়েছেÑতা জানতে হবে। এজন্য বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণে বাংলাদেশি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে খাদ্য ও কৃষিজাত শিল্প পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশের বেশ কটি ব্র্যান্ডের পণ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ায় এর বাজার বিস্তৃতির উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য সময়োপযোগী, কার্যকর, বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।

বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের রপ্তানি খাত এখনও গুটিকয়েক পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে পোশাকশিল্প থেকে। এরপর রয়েছে চামড়া, পাটজাত পণ্য ও ওষুধপণ্য। স্বল্পপণ্যের ওপর এই অতিনির্ভরতা রপ্তানি নৈপুণ্য এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্বশীলতা উভয় দিক থেকে দুশ্চিন্তার। কাজেই রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই। বাস্তবতা হলো, রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সেগুলোর মধ্যে আছে বর্তমান বাণিজ্য কাঠামোয় সমস্যা, বাণিজ্যনীতি ও প্রণোদনা ব্যবস্থা সম্পর্কিত সমস্যা, শুল্কায়ন পদ্ধতির জটিলতা, বিরাজমান বাণিজ্যনীতি ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা এবং অবকাঠামো ব্যবহার (বন্দর, পরিবহন প্রভৃতি) সেবায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়। রপ্তানি বৈচিত্র্য বেগবান করতে এগুলোর সমাধান এখন সময়ের দাবি। উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করলে এবং বিদ্যমান সুবিধাগুলো সংকুচিত হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে। তেমনটি হলে পুরো অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ পড়বে বৈকি। সুতরাং এটি বিবেচনা করে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রচলিত পণ্যের বাইরে আরও কিছু পণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছেÑগ্লাস, ইলেকট্রনিক পণ্য, সিরামিকস, হালকা প্রকৌশল পণ্য, সিমেন্ট, আইটি পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ছোট জাহাজ প্রভৃতি। শুধু পণ্য নয়, রপ্তানি গন্তব্যেও বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। দেশের রপ্তানি বাজার প্রধানত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক। মূলত বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকারমূলক ও শুল্ক সুবিধার কারণে বাজার প্রবেশাধিকারে তুলনামূলক ভালো করেছে বাংলাদেশ। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সেখানে বাজার ধরে রাখা কঠিন। তাই নতুন রপ্তানি গন্তব্যের অন্বেষণ দরকার। জাপান, রাশিয়া, ব্রাজিল, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি গন্তব্য হতে পারে। রপ্তানি বাড়াতে ওইসব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করা বেশ সহায়ক হবে। পণ্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে বাজার বহুমুখীকরণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তৈরি-পোশাকবহির্ভূত পণ্যের বড় বাজার অপ্রচলিত বাজারগুলোয় বিদ্যমান। এসব বাজার মূলত ভারত, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশকেন্দ্রিক। পাশাপাশি বাংলাদেশি অধ্যুষিত বা বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর অবস্থানরত দেশগুলোতে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাজার রয়েছে। অবশ্য এসব পণ্যের বাজার খুব বড় নয়। উপরোক্ত সব পণ্যের বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা খুব সীমিত আকারেই রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারছেন ভিন্ন ভিন্ন কারণে। প্রথমত, অপ্রচলিত প্রায় প্রতিটি বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব দেশ উন্নয়নশীল হওয়ায় পণ্য রপ্তানিতে উচ্চ শুল্ক এক বড় বাধা। যেমনÑরাশিয়া, ব্রাজিল বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় বাজারে ৩০-৪০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি সম্ভব নয়। রাশিয়ার মতো বাজারে সরাসরি এলসি খুলে রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ, যেমন চীন বা ভারত বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিলেও বাংলাদেশ তা পর্যাপ্ত আকারে ব্যবহার করতে পারেনি। একটি নির্দিষ্ট খাত রপ্তানি বাজারে তখনই এগোতে পারে, যখন পণ্য ক্রেতারা পণ্যের অর্ডার দেয়ার জন্য অনেক বিক্রেতার খোঁজ পান। দুর্ভাগ্যজনক হলো বাংলাদেশের বেশির ভাগ উদীয়মান খাতই মাত্র এক বা একাধিক স্বল্পসংখ্যক বিক্রেতা উদ্যোক্তার ওপর নির্ভরশীল। একটি নির্দিষ্ট খাতের ন্যূনতম সংখ্যক বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার উপস্থিতি না থাকলে ক্রেতা অর্ডার দেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত থাকে। বেশির ভাগ খাত কিছু বৃহৎ উদ্যোক্তা বা গ্রুপ অব কোম্পানিজ নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এসব খাতের বিকাশ শ্লথগতিতে হচ্ছে। এসব খাতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও প্রদানের ক্ষমতা থাকা জরুরি। মোট কথা, প্রতিটি উদীয়মান খাতের ভ্যালু চেইনকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কাঁচামাল উৎপাদন বা আমদানি মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদন এবং পূর্ণাঙ্গ পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সক্ষমতা অর্জন জরুরি। উদীয়মান এসব খাতে স্বল্পতম সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা জরুরি। বাংলাদেশে প্রায়ই বলা হয়, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এবং প্রায় সব খাত বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উš§ুক্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বাধার সম্মুখীন হন। অনেক ক্ষেত্রে দেশীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করার অজুহাতে বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করার একটা অলিখিত প্রবণতা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম করা বিশেষভাবে জরুরি। মনে রাখা দরকার, বিদেশি উদ্যোক্তারা প্রথমে ক্ষুদ্র আকারের বিনিয়োগ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বৃহদাকারের বিনিয়োগে যেতে চান। সুতরাং ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বিদেশি বিনিয়োগ উদীয়মান খাতের জন্য উপযোগী এবং এর জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা দরকার। শুধু এক বা দুই ধরনের পণ্যের

ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করাকে বোঝায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলোÑএকক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা এবং অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস, যা রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অন্য প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর অবদান এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের গুরুত্ব রয়েছে। একক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করে। পণ্যের বহুমুখীকরণ এই ঝুঁকি কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনে। বাজার সম্প্রসারণ হলে রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্যময় হলে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করে রপ্তানির পরিমাণ ও আয় বাড়ানো সম্ভব হয়। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ একটি জরুরি পদক্ষেপ। রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো হলো, তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, যা অন্যান্য খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বহুমুখীকরণের কথা বলা হলেও এর অগ্রগতি খুবই ধীর। তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যসহ অন্যান্য খাতের রপ্তানি আয় এখনও কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌঁছায়নি। শুধু তৈরি পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে হবে। বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এখনও অনেক দূর। যদিও দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত হচ্ছে। তবুও এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে খুবই কম। বাস্তবে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো পরিষ্কার চিত্র দেখা যাচ্ছে না। তৈরি পোশাক এখনও আধিপত্য বজায় রেখেছে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, কলাম লেখক

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

মানসিক চাপ কাটাতে অন্তর্ব্যক্তিক যোগাযোগের ভূমিকা

Next Post

শ্রমঘন কারখানার সার্বিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করুন

Related Posts

পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার

বীমা-বস্ত্র খাতের দাপটে চাপে বড় মূলধনের কোম্পানি

প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে ১০,৫০০ কোটি টাকা পাচার
প্রথম পাতা

প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে ১০,৫০০ কোটি টাকা পাচার

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক
শেষ পাতা

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

Next Post

শ্রমঘন কারখানার সার্বিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করুন

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

সমাজ বদলে দেয়া ৬ জনকে সম্মাননা দিলো আবুল খায়ের গ্রুপ

সমাজ বদলে দেয়া ৬ জনকে সম্মাননা দিলো আবুল খায়ের গ্রুপ

লুমিনাস বাজারে আনলো বিশ্বমানের চুলা

লুমিনাস বাজারে আনলো বিশ্বমানের চুলা

পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার

বীমা-বস্ত্র খাতের দাপটে চাপে বড় মূলধনের কোম্পানি

প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে ১০,৫০০ কোটি টাকা পাচার

প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে ১০,৫০০ কোটি টাকা পাচার

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক




 

আর্কাইভ অনুসন্ধান

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

প্রকাশক ও সম্পাদক ✍ মীর মনিরুজ্জামান

তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৪৮

একটি শেয়ার বিজ প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠান

(প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে)

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বিএসইসি ভবন (১০ তলা) ॥ ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ॥ ☎ 01720123162, 01768438776

  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET