নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ধাপে ধাপে টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকার সেনা কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক।
তিনি জানান, স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীরা প্রথম দিন থেকেই সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। এরপর প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে তোলার সুযোগ থাকবে। এভাবে সর্বোচ্চ ২১ মাসের মধ্যে পুরো আমানত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুধু সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব নয়, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ও ডিপিএসসহ অন্যান্য আমানতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। যেসব আমানত মেয়াদপূর্তিতে পৌঁছাবে, সেগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা তোলা যাবে এবং অবশিষ্ট অর্থ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবায়ন করা হবে। নবায়নের সময় গ্রাহকরা মুনাফা তুলতে পারবেন, তবে মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস মেয়াদি আমানত তিনবার, ছয় মাস মেয়াদি আমানত দুইবার এবং এক বা দুই বছর মেয়াদি আমানত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুনর্নবায়নের মাধ্যমে উত্তোলন করা যাবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গুরুতর অসুস্থ বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। কিডনি রোগীসহ জটিল রোগে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাহীন অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে।
এছাড়া অন্যান্য অসুস্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের অনুমোদন দিতে পারবেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় করা হবে।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার একযোগে কাজ করছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে নতুন ব্যবস্থাপনা গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে এবং আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে এই নতুন ব্যাংক গঠিত হওয়ায় এখন শাখা, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত কাঠামো সমন্বয়ের কাজ চলছে। একই এলাকায় একাধিক শাখা থাকলে সেগুলো ধাপে ধাপে একীভূত করা হবে, যাতে পরিচালন ব্যয় কমে এবং দক্ষতা বাড়ে।
এছাড়া একাধিক প্রধান কার্যালয়ের পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত কার্যালয় রাখা হবে এবং ভাড়া করা অফিসগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে।
বর্তমানে পাঁচ ব্যাংকে ভিন্ন ভিন্ন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সফটওয়্যারকে একীভূত করে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি বিদ্যমান জনবল পুনর্বিন্যাস, দায়িত্ব বণ্টন এবং শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের কাঠামো পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি দক্ষ, লাভজনক ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post