প্রতিনিধি, লালমনিরহাট : ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর। তবে তীব্র স্থান সংকট এবং সংকীর্ণ মহাসড়কের কারণে নষ্ট হচ্ছে অপার সম্ভাবনা। ফলে ব্যবসায়ী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, বন্দরটি মাত্র ১১ দশমিক ১৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ প্রতিদিন ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে ৩৫০টিরও বেশি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যায় ৬০-৭০টি ট্রাক। প্রতিদিন চার শতাধিক গাড়ির চাপ সামলাতে হয় ছোট্ট এ বন্দরকে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দরের বাইরে বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এসব ট্রাককে।
তবে ভোগান্তির অপর নাম এ মহাসড়ক। ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি মাত্র ১৮ ফুট চওড়া, যা দুটি ট্রাক পাশাপাশি অতিক্রম করার পক্ষে যথেষ্ট নয়। এর ওপর সড়কটিতে রয়েছে ৩২টি বিপজ্জনক বাঁক এবং ১১টি লেভেল ক্রসিং। ফলে সড়কের ওপর পার্ক করে রাখা ট্রাক এবং সরু রাস্তার কারণে এখানে যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্দরের বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পের আওতায় ৪০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এর মধ্যে সাত একর জমি স্থানীয়দের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ১৮ একরের বেশি খাসজমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে ১৩ একর জমির বনিবনা না হওয়ায় পুরো প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। এতে জমি অধিগ্রহণ এবং বন্দরের উন্নয়ন কাজÑদুটোই পিছিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাকচালক শাহ আলম বলেন, ‘মহাসড়কটি এত চিকন যে, সবসময় যানজট লেগেই থাকে। গাড়ি ঘোরানো কষ্টকর। দুর্ঘটনা তো আছেই। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বন্দরের রাস্তা এত খারাপ হয় কী করে!’ আরেক চালক মিলন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বন্দরেই আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। রাস্তা ছোট হওয়ায় ওভারটেক করতে গেলে গাড়ি খাদে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। সরকার দ্রুত রাস্তাটির দিকে নজর দিলে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও গতি বাড়ত।’
স্থানীয় বাসিন্দা জাদু মিয়া বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে ধুলা আর গাড়ির ধোঁয়ায় মাস্ক পরে থাকতে হয়। স্থলবন্দরের রাস্তা এত ছোট, ভাবা যায় না। আমরা এই রাস্তা চার বা ছয় লেন করার দাবি জানাই।’
স্থান সংকটের কথা স্বীকার করে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জায়গার অভাবে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রকল্প চলমান। এই প্রকল্পের আওতায় প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও সড়কের কাজ হবে। তখন আর কোনো গাড়ি রাস্তার ওপরে থাকবে না। বন্দরের কাজ দ্রুতই শুরু হবে।’
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় মহাসড়ক। ৩২টি বাঁকের মধ্যে ১৬টির প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়েছে। আমরা পুরো সড়কটি অন্তত ২৪ ফুট বা প্রয়োজন হলে ফোরলেন করার জন্য ডিজাইন ও প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা করছি। তবে প্রক্রিয়াগত কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে।’
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post