নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ উচ্চ পর্যায়ে থাকায় নানা চাপের মধ্যেও দেশের ডলারের বাজারে স্বস্তি বজায় রয়েছে। এর প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে বুধবার ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু)–এর মার্চ-এপ্রিল সময়ের আমদানি বিল বাবদ বৃহস্পতিবার ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে বুধবার দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। আকুর বকেয়া পরিশোধের পর তা কমে ২৯ বিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে থাকতে পারে।
এর আগে গত মার্চে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের আকুর দায় বাবদ প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর মোট রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে। তখন বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে পরবর্তীতে আমদানি ব্যয় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তা নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে রিজার্ভ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থপাচার ও হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ৫ মে পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ৯৯৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৫০১ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৯৩ কোটি ডলার বা প্রায় ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থির রয়েছে।
প্রিন্ট করুন




Discussion about this post