শেয়ার বিজ ডেস্ক : আফগানিস্তানের সঙ্গে সব সীমান্ত ক্রসিং ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। গত শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসাইন আন্দারবি। খবর-জিও নিউজ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আফগান সীমান্ত ক্রসিং এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য আপাতত বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত সীমান্ত ক্রসিং এবং বাণিজ্য বন্ধই থাকবে। পাকিস্তানিদের জীবনের দাম বাণিজ্যের থেকে অনেক বেশি।’
পাকিস্তানের তালেবানপন্থি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার মদত দিচ্ছেÑ এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। তবে আফগানিস্তান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গত ৯ অক্টোবর কাবুলে বিমান হামলা চালায় আফগানিস্তানের বিমানবাহিনী। এতে নিহত হন টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ, দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ গোষ্ঠীটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।
এই হামলাকে ‘দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’ উল্লেখ করে ১১ অক্টোবর আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের সেনবাহিনীও অবশ্য প্রস্তুত হয়েছিল। ট্যাংক, গোলাবারুদ, ভারী ও হালকা সমরাস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার নিয়ে আফগান বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে নামে পাক বাহিনী।
টানা চার দিন চলা এ সংঘাতে আফগান বাহিনীর ২ শতাধিক এবং পাক বাহিনীর ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। পরে ১৫ অক্টোবর প্রথমে ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দুই পক্ষ। তারপর ১৭ তারিখ কাতারের রাজধানী দোহায় সংলাপে বসেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিরা। সেই সংলাপে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে আফগানিস্তানের সঙ্গে কয়েকটি সীমন্ত ক্রসিং আছে, তবে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং হলো তোরখাম। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এই সীমন্ত দিয়ে তাজা ফল, শাক-সবচি, খনিজ পদার্থ, ওষুধ, গম, চাল, চিনি, মাংস এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যবাহী শত শত ট্রাক দুই দেশে প্রবেশ করে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রতি বছর ২৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বাণিজ্য হয়।
এক প্রতিবেদনে জিও নিউজ জানিয়েছে, বর্তমানে তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ের দু’পাশে দাঁড়িয়ে আছে ৫ হাজারেরও বেশি ট্রাক। ক্রসিং খোলার অপেক্ষায় আছেন এই ট্রাকচালকরা।
এদিকে, সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দু’দেশেই বাড়ছে ভোগ্যপণ্যের দাম। জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে পাকিস্তানে টমেটোর দাম বেড়েছে পাঁচগুণ। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ রুপিতে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধান সীমান্ত ক্রসিংগুলো বাণিজ্য ও যাতায়াতের জন্য বন্ধ থাকায় ইসলামাবাদসহ সারা দেশের বাসিন্দারা টমেটোর আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে চলতি মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিমের তোরখাম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের চামান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়।
ঐতিহ্যগতভাবে, স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে পাকিস্তান এই দুটি সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তান থেকে টমেটো ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য আমদানি করে।
ইসলামাবাদের জি-৯ সবজি বাজারের ক্রেতা শান মসিহ্? হতাশা প্রকাশ করে আরব নিউজকে বলেন, এগুলো (টমেটো) খুব ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। আমরা বুঝতে পারছি না। যেহেতু সব খাবারেই এটা প্রয়োজন, আমরা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন।
ইসলামাবাদের ফল ও সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ ইমরান জানান, জোগানের অভাব কী করে দেখা দিল। তিনি বলেন, আজকের দর ৪০০ রুপি। সীমান্ত বন্ধ থাকায় আফগানিস্তান থেকে সরবরাহ বন্ধ। এখন ইরান, সিন্ধু ও কোয়েটা থেকে আসছে। চাহিদা কমেনি। লোকেরা আগের মতোই কিনছেন। কিন্তু জোগান অনেক কম।
অন্য ক্রেতা নুসরাত জাহান বলেন, তিনি সবেমাত্র এক কেজি টমেটো ৪০০ রুপিতে কিনেছেন, যা কয়েদিন আগে আরও কম দামে বিক্রি হতো।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আশা করছে, শিগগিরই দাম স্বাভাবিক হবে। ইসলামাবাদের মার্কেট কমিটির চেয়ারম্যান সাজিদ আব্বাসি বলেন, বিকল্প সরবরাহ রুট শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে শিগগিরই দাম স্বাভাবিক হবে।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post